শেয়ার কারসাজি

সিরিয়াল ট্রেডিংয়ে কাশেম ড্রাইসেলের শেয়ারে ১১ কোটি টাকা মুনাফা

সময়: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৭, ২০১৯ ৩:৩৬:৫৬ পূর্বাহ্ণ

সাইফুল শুভ : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি কাশেম ড্রাইসেল্স লিমিটেড (বর্তমানে কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড)-এর শেয়ার লেনদেনে কারসাজি প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিছু ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠান কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দর বাড়িয়ে ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা মুনাফা তুলে নিয়েছে। কাশেম ড্রাইসেলের লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর একটি সূত্র।
জানা গেছে, কাশেম ড্রাইসেলের শেয়ার লেনদেনে ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা মুনাফা তুলে নিয়েছে। এর মধ্যে নারায়ন চন্দ্র পাল এবং তার সহযোগিরা ৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি মুনাফা করেছে। প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজ লিমিটেড (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম ইয়াজদানি) ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বেশি মুনাফা করেছে। মোহাম্মদুজ্জামান এবং মাহিবুল ইসলাম যৌথভাবে ৭২ লাখ ৮২ হাজার টাকা মুনাফা করে। এছাড়া সোলাইমান রুবেল নামক একজন বিনিয়োগকারী এবং তার সহযোগিরা ২৪ লাখ ৬০ হাজার ১৮৩ টাকা মুনাফা করেছে।
বিএসইসি সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে কাশেম ড্রাইসেলের শেয়ার অস্বাভাবিকভাবে লেনদেন করে দর বাড়ানো হয়েছে। ওই লেনদেনের সাথে জড়িতদের কারণ দর্শানোর জন্য চিঠি দিয়েছে বিএসইসি। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর তাদেরকে কারণ দর্শানোর জবাব দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে বিএসইসি-তে শুনানিতে অংশ নিতে হবে।
সূত্রমতে, বিএসইসি’র কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, ওই সময়ে তারা নিজেদের মধ্যে বিশাল পরিমাণ শেয়ার লেনদেন করে দর বাড়িয়েছে। এতে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দর বেড়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এতে কাশেম ড্রাইসেল কেনায় আগ্রহী হয়েছে। বেশি দরে শেয়ার কিনে এখনো অনেক বিনিয়োগকারী লোকসানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে বিএসইসি’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে সংস্থার মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’
ওই সময় কাশেম ড্রাইসেলের ৪ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার ছিল। যার ২ কোটি ৮৩ লাখ শেয়ার বাজারে ছিল। অর্থাৎ ৬৪ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আর ৫.৪৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে।
বিএসইসি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য পর্যালোচনা করে দেখেছে, ওই সময় তারা কাশেম ড্রাইসেলের শেয়ার কিনে নিজেদের বিও হিসেবে জমা করে। পরবর্তীতে দর বাড়িয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে এ মুনাফা করে।
তবে মুনাফা করেছে এমন কয়েকজন বিনিয়োগকারীর কথা বলে জানা গেছে, তারা শুনানির চিঠি এখনও পাননি। এমনকি অনেকে তখন শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। অনেক আগের বিও হিসাব ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজ লেনদেন চালিয়ে কারসাজির কথা বলেছে।
এ বিষয়ে সোলাইমান রুবেল শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে জানান, তিনি দীর্ঘদিন থেকে শেয়ার ব্যবসায় জড়িত নন। এমনকী তিনি আর ওই বিও হিসাবের কোনো খোঁজ-খবরও রাখেন না। বর্তমানে তিনি অন্য ব্যবসায় মনোযোগী।
এ বিষয়ে প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের সিইও মো. আবুল কালাম ইয়াজদানি বর্তমানে হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে জানান। এছাড়া তাদের কোম্পানির অন্য কোন কর্মকর্তা এ বিষয়ে কথা বলতে সম্মত হননি।
এ বিষয়ে আল-মুন্তাহা ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আকবর কবির ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, বিএসইসি তাদের কাছে লেনদেনের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইবে। এটি বিএসইসি’র দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে সাধারণত এমন চিঠি দিয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এটা পালন করতে বাধ্য। হয়তো ভবিষ্যতের জন্য কিছু দিক-নির্দেশনাও দেবে তাদেরকে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Tagged