ডিএসই-সিএসই’র চাপে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক

সময়: বুধবার, জুলাই ১৭, ২০১৯ ৬:০৭:৪২ পূর্বাহ্ণ

এম সাইফুল শুভ : অব্যাহত মন্দা বাজারেও ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে চাপের মধ্যে রেখেছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। বিভিন্ন বিনিয়োগকারীদের ব্যক্তিগত ঋণ, নেটিং ও শাখাগুলোর লেনদেনের তথ্য চেয়ে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংককে চিঠি দিয়ে চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের ঋণের (নেগেটিভ ইক্যুইটি) তথ্যও চাওয়া হয়েছে। এতে ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকাররা ক্ষুব্ধ। ফলে বাধ্যতামূলক বিক্রি বা ফোর্সড সেলের মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে বিনিয়োগকারীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।

ব্রোকাররা বলছেন, তারা নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় ঋণের প্রতিবেদন স্টক এক্সচেঞ্জকে দিয়ে থাকে। কিন্তু চলমান মন্দা পরিস্থিতিতে এ চিঠি দেয়া দুঃখজনক। কারণ এখানে প্রতিনিয়ত সূচক কমছে। ফলে ঋণের তথ্য সঠিকভাবে হিসেবও করতে পারছে না। বাজারের এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের কথা চিন্তা করে ফোর্সড সেল করতে চাচ্ছে না তারা।

জানা গেছে, যেসব ব্রোকারেজ হাউজ বা মার্চেন্ট ব্যাংক প্রান্তিক ঋণ (মার্জিন লোন) দিয়ে থাকে. তাদের জন্য এই মুহুর্তে নেগেটিভ ইক্যুইটি রিপোর্ট তৈরি করা খুবই কঠিন। কারণ প্রতিদিন সূচক কমছে। ফলে শেয়ারের দামও নিয়মিত কমছে। ফলে একদিন পরেই আর সেই তথ্য পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। গত ৩ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মনিটরিং অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স ডিপার্টমেন্ট থেকে সর্বশেষ চিঠি দিয়েছে সব ব্রোকারেজ হাউজ ও স্টেক হোল্ডারদের। চিঠিতে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য বলা হয়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) থেকে গত ৮ জুলাই আরেকটি চিঠি দেয়া হয়। সেখানেও গ্রাহকদের ব্যক্তিগত ঋণের তথ্য, নেটিং এবং ব্রোকারেজ হাউজের শাখা অনুযায়ী লেনদেনের তথ্য চেয়েছে।
ব্রোকাররা বলছেন, এসব তথ্য চাইলে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আর ব্রোকারেজ হাউজগুলো নিয়মিত এসব তথ্য দিয়েও থাকে। কিন্তু বাজারের এই কঠিন সময়ে এ ধরণের চাপ প্রয়োগকে তারা খুব দুঃখজনকভাবে দেখছেন।

এ বিষয়ে ডিএসই’র দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মতিন পাটোয়ারি শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, চিঠির বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি দায়িত্ব নেয়ার আগেই যেহেতু চিঠি গিয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মর্ডান সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুজিস্তা নূর-ই-নাহারিন (মুন্নি) শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, শেয়ারবাজার বর্তমানে স্মরণকালের সবচেয়ে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। এমনকি গত ২০১০-এর চেয়েও খারাপ যাচ্ছে। তাই এ মূর্হুতে বাজারের জন্য নেতিবাচক হয়- এমন কিছু না করাই ভাল। সবাইকে চেষ্টা করতে হবে বাজারকে সহায়তা করা। সেটা যার যার দায়িত্বের মধ্যে থেকেই সহযোগিতা করতে হবে। নেগেটিভ ইক্যুইটি রিপোর্ট করলে যদি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো ভুল তথ্য যায়- তাহলে পরেও করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে শ্যামল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) পরিচালক মোঃ সাজেদুল ইসলাম শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জ বিক্রির জন্য কাউকে বাধ্য করছে না, রিপোর্ট চেয়েছে। এই বাজারে ফোর্সড সেল করার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। এটি নিশ্চিত করে বলতে পারি। তাই আমার মনে হয় ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Tagged