পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে সন্ত্রাসী হামলা

সময়: সোমবার, জুন ২৯, ২০২০ ৪:০১:৪৭ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলা হয়েছে পাকিস্তানের করাচি শহরে অবস্থিত পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনে। আজ সোমবার (২৯ জুন) সকালে চারজন সন্ত্রাসী ভারী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এই হাই সিকিউরিটি জোনে হামলা চালায়। এই হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। তবে হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিরাপত্তা কর্মীদের পাল্টা হামলায় সন্ত্রাসী চার জনই নিহত হয়।

খবর অনুসারে, আজ সকাল ১০টার কিছুক্ষণ আগে ওই সন্ত্রাসীরা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও গ্রেনেড নিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনটিতে হামলা চালায়। স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তারক্ষীর উপর প্রথমে গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। এর পরপরই শুরু হয় রাইফেলের গুলি। বৃষ্টির মতো গুলি চালিয়ে তারা ভবনটিতে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। কিন্তু নিরাপত্তাবাহিনী সক্রিয় থাকায় তারা সঙ্গে সঙ্গেই আক্রমণকারীদের প্রতিরোধে পাল্টা গুলি ছুঁতে থাকে। তাতে ঘটনাস্থলেই হামলাকারীরা নিহত হয়।

হামলাকারীরা কোনো জঙ্গী দলের সদস্য কি-না কিংবা তা কী উদ্দেশ্যে স্টক এক্সচেঞ্জে হামলা চালিয়েছে তা জানা যায়নি। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো সংগঠন হামলার দায়-দায়িত্ব স্বীকার করেছে বলে নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

তবে দুয়েকটি সংবাদপত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের স্বাধীনতাকামী বালুচ লিবারেশন আর্মি এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। কিন্তু পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এখনো। কোনো সর্বজন স্বীকৃত স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন স্থানীয় পুলিশের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের হামলায় পুলিশের একজন ইন্সপেক্টর ও চারজন নিরাপক্ষা রক্ষী নিহত হয়েছেন। এছাড়া একজন সাধারণ মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে এই বর্বর হামলায়।

করাচি পুলিশের প্রধান গোলাম নবী মেমন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, সন্ত্রাসীরা একটি সিলভার রঙের গাড়িতে (ঝবফধহ ঈধৎ) করে ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশের প্রতিরোধে তাদের সবাই নিত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র ও গ্রেনেড-গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক আবিদ আলী স্থানীয় জিও টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, সন্ত্রাসীরা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনের পার্কিং লট দিয়ে উপরে উঠে এসে হামলা শুরু করে। তারা প্রথমে ভবনটির মূল ফটকে গ্রেনেড ছুঁড়ে। পরে শুরু করে অবিরাম গুলি।

স্টক এক্সচেঞ্জটির সব কর্মকর্তাকে উপরের ফ্লোরে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী পুরো ভবনে তল্লাশী চালানোর পর তারা বের হতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।

স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে পরে বিস্তারিত জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হবে বলে তাদের টুইট অ্যাকাউন্ট থেকে এক টুইটে বলা হয়েছে।

সন্ত্রাসীরা ভবনটিতে প্রবেশ করতে পারলে কোনো দাবির জন্য স্টক এক্সচেঞ্জ কর্মকর্তাদের জিম্মি করতে পারতো বলে মনে করা হচ্ছে। আর সে ক্ষেত্রে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের হতাহতের আশংকা ছিল।

ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা রিজওয়ান আহমেদকে উধৃত করে যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকা জানিয়েছে, নিহত হামলাকারীদের সঙ্গে খাবার পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমান করা হচ্ছে, তারা ভবনটিতে প্রবেশ এবং সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিল।

সাধারণত কাউকে জিম্মি করে নিদির্ষ্ট দাবিদাওয়া নিয়ে কর কষাকষির উদ্দেশ্য থাকলে এমন পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Tagged