bangladesh bank

পুঁজিবাজারের জন্য সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ছাড়

সময়: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০ ৯:০৯:৫১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : অবশেষে পুঁজিবাজারের বিশেষ তহবিলের অর্থ ছাড়ের ঘোষণা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষ তারল্য সহায়তার অংশ হিসেবে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন ও এর বিনিয়োগ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলার অনুযায়ী, প্রত্যেকটি তফসিলি ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকা দেয়া হচ্ছে। সে হিসেবে মোট ৫৯টি তফসিলি ব্যাংককে ১১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা দেয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ শতাংশ সুদে এই ঋণ তহবিল দিবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ৭ শতাংশ সুদ হারে ঋণ হিসেবে দিতে পারবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকসমূহ ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত যে কোন কার্যদিবসে রেপোর মাধ্যমে বর্ণিত ২০০ কোটি টাকার সীমার মধ্যে যে কোন অংকের তহবিল বাংলাদেশ ব্যাংক হতে সংগ্রহ করতে পারবে। রেপোর সুদের হার ৫ শতাংশ নির্ধারিত থাকবে এবং কোন প্রকার অকশনের প্রয়োজন হবে না।

তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পুঁজিবাজার সংক্রান্ত সাবসিডিয়ারীর ক্ষেত্রে এরূপভাবে গঠিত পোর্টফোলিও’র বাজারভিত্তিক পুনঃমূল্যায়ন ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত স্থগিত থাকবে এবং ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ আর্থিক বিবরণীতে প্রকাশ করতে হবে। পুনঃমূল্যায়নের ক্ষেত্রে অন্যান্য মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ (ডিলার) সংশ্লিষ্ট মূল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করবে।

বিনিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, নিজ ব্যাংকের কোন শেয়ার ক্রয় করা যাবে না। অন্য কোন তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উক্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের ২ শতাংশের বেশি ক্রয় করা যাবে না। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভিন্ন অন্য কোন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উক্ত কোম্পানির মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের ১০ শতাংশের বেশি ক্রয় করা যাবে না। ব্যাংকের সাবসিডিয়ারী কোম্পানি নয়, এরূপ মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউজ (ডিলার) কর্তৃক কোন ব্যাংক কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উক্ত কোম্পানির মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের ২ শতাংশের বেশি ক্রয় করা যাবে না।
মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মোট ইউনিটের ১০ শতাংশ এবং বেমেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মোট ইউনিটের ১৫ শতাংশের বেশি ক্রয় করা যাবে না।

মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউজ (ডিলার) কর্তৃক একাধিক ব্যাংক হতে এই বিশেষ তহবিলের আওতায় ঋণ গ্রহণ করলে প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথক ব্যাংক ও বিও হিসাব খুলতে হবে। ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদানুযায়ী যে কোন সময় বিও হিসাব সংশ্লিষ্ট সমুদয় তথ্য ও দলিলাদি বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে বাধ্য থাকবে’- এ মর্মে ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান ঋণ গ্রহীতার নিকট থেকে অঙ্গীকারনামা গ্রহণ করবে।

পুঁজিবাজারের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এক প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে এ বিশেষ তহবিল দেয়া হলো। এ দিকে তহবিলকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)।

বিএমবিএ’র সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে তাৎক্ষণিক মন্তব্যে বলেন, এটি পুঁজিবাজারের জন্য একটি বিরাট সুখবর। আমরা যা চেয়েছিলাম, তারচেয়ে বেশি পেয়েছি বলতে হবে। ব্যাংকগুলোর এ বিনিয়োগ শর্ত ২০২৫ সাল পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Tagged