ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে লিজিং কোম্পানিগুলোতে পুনঃঅর্থায়নের বরাদ্দপত্র

সময়: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০১৯ ৪:১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

এম সাইফুল শুভ : ‘পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিল’ থেকে পুণঃঅর্থায়নের জন্য বরাদ্দপত্র দেয়ার পর লিজিং কোম্পনিগুলোর কাছ থেকে সেগুলো আবার ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ কারণে অনেক লিজিং কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর পক্ষ থেকে বরাদ্দপত্র দিয়েও তা ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। গত ২২ মে বাংলাদেশ ব্যাংক এ তহবিল ছাড়ের অনুমতি দিলেও এখন পর্যন্ত অর্থ বিতরণ শুরু করেনি সংস্থাটি। উল্টো বরাদ্দপত্র দিয়ে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। এটি লিজিং কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কিনা খতিয়ে দেখতে হবে।

বরাদ্দপত্র ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে আইসিবি’র একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি পিপলস লিজিংয়ের অবসায়নের ঘটনার পর ব্যাংক-বর্হিভূত আর্থিক খাতের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে অর্থছাড়ের পর তা ফেরত পেতে সমস্যা হবে কি না।

এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একাধিক সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, বিগত দিনে যারা টাকা নিয়েছে, তাদের পারফরমেন্স বিবেচনা করে টাকা দেয়া হলে অর্থ ফেরত পেতে কোনো সমস্যা হবে না।

প্রসঙ্গত: গত ২২ মে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আইসিবি-কে অর্থছাড়ের পর ২৪ মে কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় অর্থ বিতরণের জন্য বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউজের কাছে আবেদন চাওয়া হয়। এতে ‘আগে আসলে আগে পাবে ভিত্তিতে’ অর্থ বরাদ্দ দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। মোট ৮৫৬ কোটি টাকার তহবিল দিলেও পুনঃঅর্থায়ন করার জন্য দেয়া হচ্ছে মাত্র ৯৫ কোটি তিন লাখ টাকা। আর ৭৬০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা আইসিবি নিজে বিনিয়োগ করবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুনঃঅর্থায়নের জন্য আরো বেশি অর্থ দিলে প্রকৃতপক্ষে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতো।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী তহবিল তদারকি কমিটির আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান ‘শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে জানান, ‘অনেক প্রতিষ্ঠানই অর্থ চেয়ে আবেদন করেছে। এজন্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে কারা ঋণ ফেরত দিতে পারবে। সেখানে লিজিং কোম্পানি বা ব্রোকারেজ হাউজ সেটি মুখ্য বিষয় নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘যাচাই-বাছাই করে ঋণ দেয়ার কারণে আগেরবার যে টাকা দেয়া হয়েছিল, তার প্রায় পুরো টাকাই সুদ ও আসলে আদায় হয়েছে। এটি বাংলাদেশে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

আইসিবি’কে কেন সিংহভাগ টাকা দেয়া হলো জানতে চাইলে সাইফুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আইসিবি। তাই তাদেরকেই সিংহভাগ টাকা দেয়া হয়েছে। এটাই স্বাভাবিক। আইসিবি তাদের মতো বিনিয়োগ করছে। বাজারকে সহায়তা করার জন্য তাদের কাছে এ তহবিল দেয়া হয়েছে।’

এদিকে আইসিবি সূত্র বলছে, এবারের অর্থ ছাড়ের নীতিমালায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আগে শুধু ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংককে দেয়া হলেও, এবার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকেও এ তহবিল থেকে টাকা দেয়া হচ্ছে। এজন্য আইনি পরামর্শ নেয়ার জন্য আইনজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ (ভেটিং) চাওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে আইসিবি’র পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ নজরুল ইসলাম ‘শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ থেকে অর্থছাড় করা শুরু হতে পারে। ইতোমধ্যেই সার্বিক কাজ শেষ হয়েছে।’

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Tagged