editorial

বিশেষ তহবিল নিয়ে শেয়ারবাজারে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক

সময়: রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২০ ৮:৫১:৩১ অপরাহ্ণ

গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে শেয়ারবাজারে ব্যাংকিং সেক্টরের বিনিয়োগ নিয়ে চমৎকার একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদটি দেশের মেয়ারবাজারের হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে দারুনভাবে উৎসাহিত এবং আশান্বিত করেছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারে পুঁজির যোগান বাড়ানোর লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ব এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিশেষ তহবিলের আওতায় বিনিয়োগ শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই ৫টি ব্যাংক বিশেষ তহবিল গঠন করে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ শুরু করেছে। এর মধ্যে ৪টি ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে এই বিনিয়োগ করছে। আর একটি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল নিয়ে এই বিনিয়োগ কার্যক্রম অংশ নিয়েছে। এ ছাড়া আরো ৫টি ব্যাংক খুব শিঘ্রই বিশেষ তহবিল গঠন করে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ শুরু করবে বলে জানা গেছে। এ সপ্তাহে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, গতহ জানুয়ারি মাস থেকেই শেয়ার বাজারে এক ধরনের অস্বাভাবিক উত্থাপ-পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বিশেষ করে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর পতন ঘটছিল। অনেকেই শেয়ার বাজারের এই অস্বাভাবিক উত্থান-পতন এবং বিশেষ করে দর পতনের ঘটনাকে ২০১০ সালের পর শেয়ার বাজারের সবচেয়ে বড় ধ্বস বলে অভিহিত করে আসছিলেন। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেয়ার বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়ে বাজার স্বাভাবিক করার জন্য স্বল্পকালীন এবং দীর্ঘ মেয়াদি দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। এরপর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে নিয়ে আসার ঘোষণা দেয়া হয়। একই সঙ্গে বাজারের স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রত্যেকটি সিডিউল ব্যাংকের উদ্যোগে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশনা প্রদান করে। বিনিয়োগকারীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে অনেক দিন ধরেই শেয়ারবাজারের জন্য ১০হাজার কোটি টাকার তহবিল প্রদানের দাবী জানিয়ে আসছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সিডিউল ব্যাংকগুলোকে যে বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য শেয়ারবাজারে প্রবিষ্ঠ হবে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ তারল্য সরবরাহের অনুরোধ বা দাবী জানানো হয়েছিল বিশেষ তহবিলের পরিমাণ তার চেয়েও ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বেশি। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেশ কিছু লাভজনক কোম্পানি শেয়ার বাজারে নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শেয়ার বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠবে এটা নিশ্চিত করেই বলা যেতে পারে। তবে শুধু পুঁজির যোগান বাড়ালেই শেয়ার বাজারের সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে না। এ জন্য শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে সংস্কার করে সময়ের উপযোগি করে গড়ে তুলতে হবে।
আগামীতে দেশের শেয়ার বাজারের গুরুত্ব এবং চাহিদা অনেক বৃদ্ধি পাবে বলেই মনে হচ্ছে। দেশের ব্যাংকিং সেক্টর যে অবস্থায় রয়েছে তাতে আগামীতে এই সেক্টর দেশের উদ্যোক্তাদের কাঙ্খিত পুঁজির চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে তেমন একটা ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে হয় না। উল্লেখ্য, উন্নত দেশগুলোতে দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগের জন্য প্রধানত শেয়ার বাজারের উপরই নির্ভর করা হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের শেয়ার বাজার সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না বলে পুঁজি গঠনে তেমন একটা অবদান রাখতে পারছে না। এখনো সাধারণ উদ্যোক্তাগণ শিল্পে বিনিয়োগযোগ্য দীর্ঘ মেয়াদি পুঁজির জন্য ব্যাংকিং সেক্টরের উপর নির্ভর করে থাকে। কিন্তু আগামীতে চাহিদাকৃত পুঁজির যোগান নিশ্চিত করার জন্য তারা শেয়ার বাজারের উপরই নির্ভর করবে। কাজেই বাজারকে এখনই উপযোগি করে গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় আমরা সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কুলিয়ে উঠতে পারবো না।

Tagged