ব্রেক ড্রাম উৎপাদন বন্ধ নিয়ে আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের লুকোচুরি

সময়: রবিবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯ ১০:২৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ

সাইফুল শুভ :

গাড়ির ব্রেক ড্রাম উৎপাদন বন্ধ নিয়ে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লুকোচুরির আশ্রয় নিয়েছে। কোম্পানিটি ব্রেক ড্রাম উৎপাদন বন্ধ করে জিআই ফিটিংস উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলছে। অথচ বাজারে জিআই ফিটিংসের কি পরিমাণ চাহিদা বেড়েছে কোম্পানির কাছে তার কোনো তথ্য নেই। ফলে বিনিয়োগকারীরা এ বিষয়ে সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা গেছে, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের অন্ধকারে রেখে গাড়ির ব্রেক ড্রাম উৎপাদন বন্ধ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ কোম্পানির ২০১৮ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আগের বছরের তুলনায় তাদের ব্রেক ড্রাম বিক্রি বেড়েছে।
গত ৯ জুন কোম্পানির এক মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে জানানো হয়, তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্রেক ড্রাম তৈরি বন্ধ করে দিয়েছে। ব্রেক ড্রামের জায়গায় তারা জিআই ফিটিংস উৎপাদন বাড়াবে। বাজার চাহিদা ও বিপণন ব্যয় বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তারা আগের চেয়ে কী পরিমাণ জিআই ফিটিংস উৎপাদন বাড়াবে তা উল্লেখ করেনি।
এদিকে কোম্পানির ২০১৮ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকার ব্রেক ড্রাম বিক্রি হয়েছে। আগের বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ২ কোটি ৩৫ লাখ ২০ টাকা। সে হিসেবে ১ কোটি টাকা বিক্রি বেড়েছে। অথচ কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এর বাজার নেই।
অন্যদিকে ঠিক কি পরিমাণ জিআই ফিটিংস উৎপাদন বা বিক্রি বাড়বে আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের কাছে এর ওপর কোনো বাস্তব সমীক্ষা নেই। এ বিষয়টি নিয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো ধরণের বক্তব্য দিতেও রাজি নয়।
এ বিষয়ে কোম্পানি সচিব তাওহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’কে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এমনকি কোম্পানির কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও কথা বলেন না বলেও জানান।
বিগত নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানির পণ্য বিক্রি হয় ৩০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এ সময় কোম্পানির আয় হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তৃতীয় প্রান্তিক শেষে (মার্চ ২০১৯) কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৯৬ পয়সা।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্স”েঞ্জ (ডিএসই) থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮২ টাকা ২০ পয়সা। সে অনুপাতে অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিই রেশিও ৬৩.৬৩। আর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী পিই রেশিও ৬৬.৩৭।
আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে এটি ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি। ৩০ জুন ২০১৯ অনুযায়ী কোম্পানির পরিচালকদের কাছে ৩৫.৩২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৬.৮৬ শতাংশ আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪৭.৮২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার। পরিশোধিত মূলধন ১৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আর অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি টাকা।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Tagged