অক্টোবরের মধ্যে শেয়ারবাজারে আসবে রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংক

সময়: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০ ৬:৪৪:০৩ অপরাহ্ণ


নিজস্বপ প্রতিবেদক : আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে পুঁজিবাজারে আসবে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক। এগুলো হরো- জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল)। ব্যাংকগুলো সরাসরি তালিকাভুক্তি পদ্ধতি (উরৎবপঃ খরংঃরহম) এর আওতায় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়ে শেয়ার ছাড়বে। আজ ৯ ফেব্রুয়ারি, রোববার অর্থমন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পুঁজিবাজার উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো ও ভাল শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে ৬টি নির্দেশনা দেন।
এর প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের রাষ্টায়ত্ত ৫ টি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দেন। এর পরেই তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার উদ্যোগের কথা জানান। তারই প্রেক্ষিতে আজ সচিবালয়ে আলোচিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, বিডিবিএল, অগ্রণী, জনতা ও সোনালী ব্যাংক ২৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়বে। তবে এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের একটু সময় লাগবে। একই সঙ্গে বাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংকের আরও ১৫ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়া হবে। এর মধ্য দিয়ে বাজারে ব্যাংকটির শেয়ারের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশে উন্নীত হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত চার ব্যাংককে আগামী সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শেয়ার ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে প্রথমেই শেয়ার ছাড়বে বিডিবিএল। পর্যায়ক্রমে বাকী তিন ব্যাংক বাজারে আসবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবার হচ্ছে অর্থনীতির রিফ্লেকশন, অর্থনীতির যে ফান্ডামেন্টাল সেই ফান্ডামেন্টালের উপর সবসময় অবস্থান করে পুঁজিবারজার। কিন্তু আমাদের আমাদের দেশর পুঁজিবাজার কেন যেন অর্থনীতির সঙ্গে অ্যালায়েন নয়। অর্থনীতির যে গতিশীলতা তার সঙ্গে পুঁজিবাজার যায় না। পুঁজিবাজার এ রকম হওয়ার কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করলাম। আমরা লক্ষ্য করলাম যে বাজারে কিছুটা মিসম্যাচ রয়েছে। বাজারে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ কম। যারা বিনিয়োগ করে নিজস্ব উদ্যোগে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কম হলে কিছু সময় বাজারে ভলাটিলিটি (বিশৃঙ্খল) বেশি থাকে। এ কারণে বাজার কমে গেলে খারাপ ইঙ্গিত বহন করে।
তিনি বলেন, আমরা দেখলাম যে, আমাদের পুঁজিবাজারে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ জন্য সরকারে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো পুঁজিবাজারে আসা উচিত সেগুলোকে আমারা পুঁজিবাজারে নিয়ে আসবো। এ লক্ষ্যে সরকারি যেসব ব্যাংক রয়েছে তার মধ্যে একটির শেয়ার বাড়ানোসহ ৫টি ব্যাংক আমরা পুঁজিবাজারে নিয়ে আসবো। ইতোমধ্যে বাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংকের শেয়ার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করবো। পাশাপাশি আমরা নতুনভাবে শেয়ারবাজারে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডকে (বিডিবিএল) নিয়ে আসবো। এরপর অগ্রণী, জনতা এবং সর্বশেষ আমরা সোনালী ব্যাংককে নিয়ে আসবো। আমরা এ বিষয়ে একটি কামিটিও করে দিয়েছি। কমিটিতে পাঁচটি ব্যাংকের প্রতিনিধি থাকবে এবং এটিকে দেখাশোনা করবে আইসিবি।
কবে এসব ব্যাংক বাজারে আসবে জানতে চাইলে মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা অক্টোবরের পরে যাবো না। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর মধ্যেই আমরা এগুলো করে ফেলবো। এ বছরের মধ্যেই আমরা ভালো কাজ যা আছে করে ফেলবো। সোনালী ব্যাংককেও আমরা নিয়ে আসবো। তবে এটাতে একটু সময় লাগবে। তবে ইভেন্চ্যুয়ালি আমরা তাদেরও নিয়ে আসবো। বাকী চারটা আমরা সেপ্টেম্বরে মধ্যে তালিকাভুক্ত করে ফেলবো। এ কাজগুলো হয়তো দুই পর্যায়ে হতে পারে। আমরা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কাজগুলো করতে চাই।
সরকারি ব্যাংকগুলোকে পুনঃঅর্থায়ন করা হবে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা এই বছরের মধ্যে সব ভালো কাজ করতে চাই। প্রতিটা ব্যাংক লাভজনক অবস্থানে আছে। তাই পুনঃঅর্থায়নের প্রয়োজন নেই। আমরা এবছর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে পুনঃ অর্থায়ন করি নাই।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতির অবস্থা আমরা ভালো ভাবেই জানি। আমাদের অর্থনীতি বছর শেষে আগের অর্থবছর থেকে কোনভাবেই খারাপ হবে না। এই প্রক্ষেপণগুলো আমাদের সব স্টেকহোল্ডাররা একই সুরে কথা বলেন। তারা মনে করেন আমাদের প্রবৃদ্ধি ৮.২০ শতাংশ অর্জন করতে পারবো। আমাদের বাজেটও সে রকমভাবে প্রক্ষেপণ করেছি, আমি বিশ্বাস করি আমরা সেটা করতে পারবো। আমাদের মূল অর্থনীতির যে এলাকা সামষ্টিক অর্থনীতির হাত ধরে জিডিপি কোথায়ও দেখিনা যে আমাদের খারাপ সংকেত দিচ্ছে। তবে আমাদের একটি খাত নেগেটিভ আছে। এই একটি খাত দিয়ে সারা অর্থনীতি বিবেচনা করা যাবে না। প্রত্যেক দেশই অর্থনীতি সমভাবে চলে না। সব বিবেচনায় আমাদের অর্থনীতি ভালো।
কামাল বলেন, বাজার শক্তিশালী করতে সরকার সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তবে বাজার বাজারের মত থাকবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ সরকার করে না। আমরা যদি কোনো সহায়ক ভূমিকা রাখি এর উপকার পাবে জনগণ। বাজারে একটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে আসতে পারি এটা যাবে জনগণের কাছে। পাশাপশি সরকারি প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে এলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কম। যারা বিনিয়োগ করেন তারা ব্যক্তিগত। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কম হলে কিছু সময় বাজারে ভলাটিলিটি (বিশৃঙ্খল) বেশি থাকে। এ কারণে বাজার কমে গেলে খারাপ ইঙ্গিত বহন করে। আমরা এ মুহূর্তে অবকাঠামো খাতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করেছি। আমরা এখন অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে চায়। অর্থনীতি যেখানে উঠানামা করে সেগুলোতে আমরা হাত দেবো। এজন্য আমাদের ব্যাংক-বিমা খাত দেখতে হবে। এগুলো ঠিক করতে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক যে সমস্যাগুলো ছিল সেগুলো দূর করা হচ্ছে। আইনি কাঠামোতে সমস্যাগুলো দূর করছি। এনবিআর ও ব্যাংকিং খাত দেখার জন্য আদালতে আমরা দুটো ডেডিকেটেড বেঞ্চ পেয়েছি। যার ফলে আমাদের মামলার সংখ্যা কমে যাবে। অপরাধী অরপরাধ করলে মামলা করতে হবে এবং সেটার রায় দ্রুত হবে। এতে করে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৮৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged