অতিশীঘ্রই ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ নির্দেশনা বাস্তবায়নে যাচ্ছে

সময়: সোমবার, মার্চ ৯, ২০২০ ১১:১৯:৫১ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের প্রত্যেকটি তফসিলি ব্যাংক শর্ত ছাড়াই দুইশত কোটি টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নির্দেশনা দিয়েছে, এটি বাস্তবায়নে অধিকাংশ তফসিলি ব্যাংক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা অতিশীঘ্রই বিনিয়োগ নির্দেশনা বাস্তবায়নে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, প্রতিটি তফসিলি ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকা দেয়ায় কথা রয়েছে। সে হিসেবে ৫৯টি তফসিলি ব্যাংককে ১১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার এই ঋণ তহবিল দিবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনার পর পরই বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ উদ্দিপনা নিয়ে বাজারে ফিরে এসেছিল। এতে টানা কয়েকদিন বাজারে সূচক ও লেনদেন বেড়ে রেকর্ডও সৃষ্টি হয়েছিল। এদিকে, নির্দেশনা জারির পর বেশ কিছুদিন কেটে গেলেও এ বিশেষ তহবিলের জন্য রেকানো ব্যাংক আবেদন করেনি। এর মাধ্যমে বিনিয়োগ নির্দেশনা বাস্তবায়নে তফসিলী ব্যাংকগুলোর কিছুটা অনীহা রয়েছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে, ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান থেকে বাজারে নতুন করে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে না। এসব কারণে বাজারে লেনদেনের যে সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল, তা ধরে রাখা যায়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ তহবিলের অর্থ বাজারে বিনিয়োগ করলে দীর্ঘ দিনের অস্থিরতা কাটবে, যা ভবিষ্যতে বাজারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল রোববার সপ্তাহের প্রথম দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৯৭ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ২৮৭ পয়েন্টে রয়েছে। এর আগে টানা কয়েকদিন সূচক উত্থানের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিএসইএক্স সূচক ৪ হাজার ৭৬৮ পয়েন্ট পর্যন্ত ওঠেছিল। এরপর গতকাল পর্যন্ত ১৪ কার্যদিবসে সূচক কমেছে ৪৮১ পয়েন্ট। ডিএসইর অন্যান্য সূচকেও নেতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলাপকালে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও শেলটেক ব্রোকারেজ লিমিটেডের পরিচালক মঈন উদ্দিন ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, বাজার স্থিতিশীলতায় সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো- বাজারের তারল্য সংকট কাটাতে বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে প্রত্যেক তফসিলি ব্যাংককে দুইশত কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া। এ অর্থ বিনিয়োগ হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কিন্তু ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে সময়ক্ষেপনের কারণে বাজারে ফের দরপতন শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা দীর্ঘ দিন বাজারে বিনিয়োগ থেকে দূরে ছিল তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পরপরই বাজারে ফিরেছে। এর পরপরই বাজারে সূচক ও লেনদেনে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু যখন দেখা যাচ্ছে নির্দেশনার কোনো বাস্তবায়ন হচ্ছে না- তখন বেশীরভাগ বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে ফের দরপতন শুরু হয়েছে।

এদিকে অধিকাংশ ব্যাংক এখনো বিশেষ তহবিলের জন্য আবেদন করেনি এটাকে কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে মঈন উদ্দিন বলেন, আমি মনে করি ব্যাংকের জন্য এ বিশেষ তহবিল একটি বড় সুযোগ। তাছাড়া ব্যাংকের বাইরে আইসিবি এবং নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর মাধ্যমে এই বিশেষ তহবিল কাজে লাগানোর সুযোগ দিলে আরো ভালো হতো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নানা কারণে শেয়ারবাজারে মন্দা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বাজারের তারল্য সংকট মন্দা পরিস্থিতিকে আরো তরান্বিত করেছে। তবে মাঝে মধ্যে স্টেকহোল্ডারদের নানা উদ্যোগ বাজারে বড় ধরনের ধ্বস থেকে রক্ষা করেছে। কিন্তু যখন উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হয়Ñ তখন ফের অস্থির হয়ে যায় বাজার। এ অবস্থা চলতে থাকলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তবে অতিশিগগিরই ব্যাংকগুলো তাদের বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু করলে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন। তাছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এর মাধ্যমে এই তহবিল সাধারণ বিনিয়োগকারী, অপ্রাতিষ্ঠানিক তথা সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে বিনিয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি করা। তাতেও বাজার স্থিতিশীলতায় ফিরবে, যা গোটা অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তারা আরও বলছেন, শুধু ঋণ বা বিশেষ তহবিল দিয়ে শেয়ারবাজার স্থিতিশীল রাখা যাবে, তা নয়। বাজারে টেকসই স্থিতিশীল রাখতে ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির বাজারে আনতে হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

এ সম্পর্কে মির্জা আজিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং সেক্টরের অবস্থা এমনিতেই ভালো না। তারল্য সংকট চলছে। এ অবস্থায় স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে তারা ফেরৎ দিতে পারবে কিনা সে বিষয়টা আগে ব্যাংক চিন্তা করছে। যদি ঋণ নিয়ে তা দিতে না পারে তাহলে তো তারল্য সংকট আরও বৃদ্ধি পাবে। তখন শেয়াবাজারের অবস্থা আরো খারাপ হবে। যখন ব্যাংকগুলো নিশ্চিত হবে যে, ঋণ সঠিক বিনিয়োগ করে মুনাফা করা সম্ভব তখন থেকে তা নেয়া শুরু করবে তারা।

তিনি আরও বলেন, আসলে এভাবে বিশেষ ঋণ দিয়ে শেয়ারবাজারের সূচক দীর্ঘমেয়াদী ধরে রাখা কঠিন। শেয়ারবাজারে সূচক বাড়াতে হলে ভালো কিছু মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি বাজারে আনতে হবে। যার মাধ্যমে সূচক ইতিবাচক ধারায় ফিরবে। বিনিয়োগকারীরাও মুনাফা করতে পারবে।

এ সম্পর্কে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, সরকার ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগের জন্য একটি বড় সুযোগ করে দিয়েছে তারপর এখনো সাড়া না দেয়া দু:খজনক। ব্যাংকগুলোর উচিত এ সুযোগ কাজে লাগানো। এতে একদিকে বাজার দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতায় ফিরতে পারে অপরদিকে ব্যাংকগুলোর মুনাফা করার সম্ভাবনা রয়েছে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪৬০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged