editorial

গুরু পাপে লঘু দণ্ড

অনিয়ম কমবে না বরং উৎসাহিত হবে

সময়: বুধবার, জুলাই ১০, ২০২৪ ১২:৩০:০৬ অপরাহ্ণ


পুঁজিবাজারে কারসাজি করা নতুন কিছু নয়। দিনের পর দিন অসাধু চক্র শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনেক সময় কারসাজি চক্র চিহ্নিত করে আর্থিক জরিমানাও করেছে। কিন্তু তারপরে কারসাজি চক্রের দৌরাত্য থামেনি বরং একের পর এক কৌশল প্রয়োগে বাজারকে বিভিন্ন সময়ে অস্থির করে তুলেছে। যার প্রধান কারণ হচ্ছে গুরু পাপে লঘু দণ্ড। এ পর্যন্ত যাদেরকে শেয়ার ম্যানুপুলেশনের কারণে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। দেখা গেছে, কারসাজি করে শত কোটি টাকা মুনাফা করলেও জরিমানা হয়েছে মাত্র ১ থেকে ২ কোটি টাকা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ১ থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরবর্তীতে আবার অনিয়মকারীরা নানা তদবিরের মাধ্যমে সেই জরিমানা মওকুফও করিয়ে নিয়েছে। এতে বাজারে কি হচ্ছে?
কারসাজি করা ব্যক্তিরা আরও অনিয়ম করার উৎসাহ পাচ্ছে। তারা ধরেই নিয়েছে, যে পরিমাণ মুনাফা করবে তার কিছু অংশ বিএসইসিকে জরিমানা হিসেবে প্রদান করবে কিংবা তদবির করবে। এসএমই প্লাটফর্মে তালিকাভুক্ত হিমাদ্রি লিমিটেডের শেয়ার নিয়ে কারসাজি করে তিন প্রতিষ্ঠান ও এক ব্যক্তি মাত্র ৫ মাসে ৮২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। তারা কারসাজির মাধ্যমে ৮২ কোটি টাকা মুনাফা করলেও এর বিপরীতে তাদের জরিমানা করা হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
ইনোভা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল বারী ও তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স এআর ট্রেডার্স এবং মেসার্স অভি ব্রিকস ও মুনীর ট্রেডার্স। এ চার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রফিকুল বারী ও তাঁর প্রতিষ্ঠান এআর ট্রেডার্সকে ১ কোটি টাকা, অভি ব্রিকসকে ৬০ লাখ টাকা ও মুনীর ট্রেডার্সকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তাদের মোট জরিমানার পরিমাণ ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
সাধারণ বিনিয়োগকারী তথা পুঁজিবাজারে এতোবড় ক্ষতি করার পরও সামান্য অর্থদণ্ড দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন অনিয়মকারীরা। তাই সামান্য আর্থিক জরিমানা দিয়ে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা যাবে না। এজন্য চীনের মত কারাদণ্ডের বিধানসহ মুনাফার দ্বিগুণ অর্থ জরিমানা করে বিএসইসিকে ইতিহাস সৃষ্টি করতে হবে। দু’একজনকে কঠোর আইনের আওতায় আনা হলে বাকিরা এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। অন্তত কয়েকজনকে জেল দিতে পারলে অবস্থা অনেকটাই বদলে যাবে। তখন সহজে কেউ আর অনিয়ম করার সাহস পাবে না। পুঁজিবাজার তখন বিশ্বমানের পুঁজিবাজার হিসেবে বিবেচিত হবে। তখন দেশ-বিদেশের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের শেয়ারবাজার ১০ হাজার কোটি টাকা লেনদেনের বাজারে পরিণত হবে।

Share
নিউজটি ১৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged