ইজিএম-এজিএমে বিশৃঙ্খলা

আইপিও’র অর্থে এফডিআর করবে রানার অটোমোবাইলস

সময়: বুধবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯ ১০:২৯:০৬ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যয় করতে ব্যর্থ হয়েছে। কোম্পানিটি আইপিও থেকে উত্তোলিত অর্থের ৪০ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এসব বিষয় নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ট্রাস্ট মিলনায়তনে কোম্পানির অতিরিক্ত সাধারণ সভা (ইজিএম) এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) চরম হট্টগোল দেখা দেয়। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।
রানার অটোমোবাইলের এজিএমে অংশগ্রহণকারী শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, অনেক প্রত্যাশা নিয়ে এ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিলাম। কিন্তু কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। অটোমোবাইল খাতের এতো বড় একটি প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে বিনিয়োগকারীরা যে পরিমাণ লভ্যাংশ প্রত্যাশা করেছিল- রানার অটোমোবাইলস তা দিতে পারেনি। বিনিয়োগকারীরা আরো প্রত্যাশা করেছিল যে, আইপিও’র মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ বা উন্নয়ন করে মুনাফা করতে পারলে প্রত্যাশা অনুযায়ী লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডাররা। কিন্তু সে আশার গুড়েও বালি।

তারা জানান, ইজিএম ও এজিএম সভায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের দাবি ছিল আইপিও’র অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে যাতে কোম্পানিটি বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারে সে ব্যবস্থা করা। কিন্তু কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়নি। আইপিওর অর্থ এফডিআর করা হবে বলে প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে রানার অটোমোবাইলস কর্তৃপক্ষ। সেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কথা বলতে চাইলেই হট্টগোল সৃষ্টি হয়।
এ সম্পর্কে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রানার অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ এফডিআর করার প্রস্তাব উত্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা তার বিরোধিতা করেন এবং অনুষ্ঠানস্থলে হট্টগোল শুরু হয়। অনেক চেষ্টার পর চেয়ারম্যান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগামীতে শেয়ারহোল্ডারদের ভালো লভ্যাংশ দেয়া হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিলে অনুষ্ঠানে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে আসে।
চরম হট্টগোলের মধ্যে রানার অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পুঁজিবাজারে শুধু টাকা তুলতে আসেনি। আপনাদের টাকা সুরক্ষিত আছে, আমাদের প্রতি আস্থা রাখতে পারেন।
এ সময় শেয়ারহোল্ডাররা তাদের অর্থের সুরক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেন। একইসঙ্গে তারা আইপিও’তে ব্যবহার না হওয়া ৪০ কোটি টাকা এফডিআর না করে ব্যবসায় কাজে লাগানোর দাবি করেন।
কোম্পানিটি আইপিও’র ৪০ কোটি টাকা এফডিআর করার সিদ্ধান্ত ছাড়াও ইজিএমে আরও দু’টি বিষয় শেয়ারহোল্ডারদের মাধ্যমে অনুমোদন করিয়ে নিয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- কোম্পানি থ্রি হুইলার (সিএনজি) উৎপাদন এবং কোম্পানি কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড অনুযায়ী নতুন ধারা যুক্তকরণ।

রানার অটোমোবাইলস লিমিটেডের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এম নজরুল ইসলাম ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, তেমন কোনো হট্টগোল হয়নি। তবে বিনিয়োগকারীরা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন। আমরা তাদের দাবির বিষয়গুলো ভবিষ্যতে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছি।
রানার অটোমোবাইলস আইপিও’র মাধ্যম শেয়ারবাজার থকে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। এর মধ্যে ৩৩ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করেছে। আইপিও’তে ব্যয় হয়েছে চার কোটি টাকা। আইপিও’র প্রসপেক্টাস অনুযায়ী অবশিষ্ট ৬৩ কোটি টাকা রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, নতুন মেশিনারি ক্রয়, ডাই অ্যান্ড মোল্ড ক্রয়, বিদ্যমান ৮০ সিসি ও ১১০ সিসি মোটরসাইকেলের উন্নয়ন খাতে ব্যয় করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত খাতে ব্যয় না করে থ্রি হুইলার উৎপাদন ইউনিট স্থাপনে ব্যয় এবং অবশিষ্ট ৪০ কোটি টাকা এফডিআর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩০৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged