editorial

আইপিও অনুমোদন বাড়ানো হোক

সময়: বুধবার, মার্চ ৪, ২০২০ ১২:৩২:৫৮ পূর্বাহ্ণ


গতকালের ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’ এ ‘আইপিও অনুমোদনে ভাটা: সূচক ও লেনদেনে নেতিবাচক প্রবণতা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদটি শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের মনে নতুন চিন্তার খোরাক যোগাবে বলেই আমরা মনে করি। ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে মহা ধ্বসের পর থেকেই বাজারে এক ধরনের ক্রান্তিকাল চলছে। কোনোভাবেই বাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাচ্ছিল না। পৃথিবীর প্রতিটি শেয়ারবাজারেই উত্থান-পতন থাকে। থাকে অনিশ্চয়তা। তারপরও বাজারে এক ধরনের স্থিতিশীলতা বিরাজ করে। বাজার বিশ্লেষকগণ আগামীতে বাজার কোন্ দিকে যাবে সে সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশের শেয়ারবাজার সম্পর্কে কোনো পূর্বাভাসই কার্যকর হচ্ছে না। বিনিয়োগকারীরা অনেক দিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন, বাজারে তারল্য সঙ্কট রয়েছে। যে কারণে বাজার স্বাভাবিক আচরণ করতে পারছে না। তারা এ জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা তহবিল প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানান। তাদের এই দাবীর প্রেক্ষিতে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় কর্তৃপক্ষ শেয়ার বাজারের উন্নয়ন এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য স্বল্প মেয়াদি এবং দীর্ঘ মেয়াদে কার্যক্রম হাতে নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সিডিউল ব্যাংকগুলোর প্রতিটিকে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ ফান্ড গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে। এই উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের শেয়ারবাজারে ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার নতুন তারল্য সৃষ্টি হবে। এটা বিনিয়োগকারীদের চাহিদার চেয়েও ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বেশি। কিন্তু তারপরও বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের খবরে বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠাটাই ছিল স্বাভাবিক কিন্তু বাস্তবে তা হয় নি। শেয়ারবাজারে গতি ফেরানোর লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তার কোনোটিই সুফল দিতে পারেনি। বাজার সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ এর আগে বলেছিলেন, বাজারে আইপিও (ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং) বেশি হয়ে গেছে। আইপিও সহজে বাজারে নিয়ে আসা যাচ্ছে বলে দুর্বল মৌল ভিত্তি সম্বলিত অনেক কোম্পানি বাজারে চলে এসেছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের এই বক্তব্যে প্রভাবিত হয়ে ২০১৯ সালে আইপিও‘র সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। কিন্তু দেখা গেলো এই উদ্যোগ শেয়ার বাজারের গতি ফেরানোর কাজে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেনি। বরং বাজার আরো নিম্নমুখি হয়েছে। বাজারে কোন্ কোম্পানির আইপিও আসবে কোনটা আসবে না তা বাজারই নির্ধারণ করবে। এ নিয়ে জোরাজুরির কিছু নেই। তবে বাজারে ভালো মানের এবং কোয়ালিটি সম্পন্ন কোম্পানিকে নিয়ে আসতে না পারলে বাজার ভালো হবে না। একই সঙ্গে বাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে হবে। বিশেষ মহলের তৎপরতায় শেয়ার বাজার যাতে প্রভাবিত না হয় সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখতে হবে। বাজারকে তার স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিতে হবে।
একটি দেশের শেয়ার বাজার দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বড় মাধ্যম। কিন্তু বাংলাদেশের শেয়ারবাজার তার সেই ভূমিকা পালন করতে পরছে না। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের যে অবস্থা তাতে আগামীতে এই খাত শিল্প খাতে বিনিয়োগে তেমন কোনো অবদান রাখতে পারবে না। তখন শেয়ারবাজারই হবে বিনিয়োগকারীদের অন্যতম প্রধান আশ্রয় স্থল। আমাদেরকে সেভাবেই শেয়ার বাজারকে গড়ে তুলতে হবে। আর এ জন্য শেয়ার বাজারে আইপিও অনুমোদনদান কমানো কোনোভাবেই ঠিক হবে না। ভালো মৌল ভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলো যাতে বাজারে আসতে আগ্রহী হয় সেটা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

 

Share
নিউজটি ৫২৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged