আদালতে গড়ালো ডিএসই’র এজিএম

সময়: বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯ ৪:০৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ


নাজমুল ইসলাম ফারুক : সময় মতো বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে চায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। কিন্তু গত বছরের এজিএম চলতি বছর করায় বিপাকে পড়েছে ডিএসই। একই বছরে দুইবার এজিএম করার বিধান না থাকায় চলতি বছরের এজিএম করতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে সংস্থাটি। এজিএম করার অনুমতি চেয়ে আদালতে ডিএসই’র পক্ষে আবেদন করেছেন সংস্থাটির পরিচালক ও বিএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড-এর স্বত্বাধিকারী মিনহাজ মান্নান ইমন। আদালতের অনুমতি পেলে এ বছর সময় মতো এজিএম করতে পারবে ডিএসই।
জানা গেছে, এক বছরের এজিএম আরেক বছর হলে ডিএসই’কে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। আর এ কারণে ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদ প্রতি বছর এজিএম করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররাও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। তবে একই বছর দু’বার এজিএম করার বিধান নেই। কিন্তু আদালত অনুমোদন দিলে তা করা যাবে। তাই নিয়মানুযায়ী ডিএসই’র পক্ষ থেকে আদালতের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। আদালতের অনুমোদনসাপেক্ষে ডিএসই চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এজিএম শেষ করবে।
১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৮১ (১) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক কোম্পানি উহার অন্যান্য সভা ছাড়াও প্রতি ইংরেজী পঞ্জিকা বৎসরে ইহার বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠান করবে। এজিএম অনুষ্ঠানের তারিখের ব্যবধান পনের মাসের অধিক হবে না। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো কোম্পানি নিগমিত হওয়ার তারিখ হইতে অনধিক আঠারো মাস সময়ের মধ্যে উহার প্রথম এজিএম সভা অনুষ্ঠান করতে পারবে এবং যদি এইরূপ সাধারণ সভা উক্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় তাহা হইলে নিগমিত হওয়ার বৎসর বা উহার পরবর্তী বৎসরে উক্ত কোম্পানির অন্য কোনো এজিএম সভা অনুষ্ঠান করার প্রয়োজন হইবে না,
আরও শর্ত থাকে যে, উপরোক্ত এজিএম অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে কোনো কোম্পানি রেজিস্ট্রারের নিকট আবেদন করিলে, রেজিস্ট্রার প্রথম বার্ষিক সধারণ সভার ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য বার্ষিক সধারণ সভা অনুষ্ঠানের সময় অনধিক নব্বই দিন বা যে পঞ্জিকা বৎসরের জন্য উক্ত সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা সেই বৎসরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, এই দুই মেয়াদের যাহা প্রথমে হয় সেই মেয়াদ পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারিবেন।’
এ সম্পর্কে ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’কে বলেন, কোম্পানি আইন পরিপালন করতে হলে সময়মতো এজিএম করতে হবে। ২০১৮ সালের ৫৭তম এজিএম গত ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই একই বছর দুটি এজিএম করা যাবে না। তবে আদালতের অনুমোদন পেলে তা করা সম্ভব হবে। কোম্পানি আইন পরিপালনের লক্ষ্যে আমি আদালতে আবেদন করি। আদালত অনুমোদন দিলে ডিসেম্বরের মধ্যেই ডিএসই এজিএম সম্পন্ন করতে পারবে।’
এদিকে ডিএসই’র সদস্য ব্রোকারেজ হাউজ বিএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডের আবেদনের প্রেক্ষিতে এজিএম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গতকাল গণমাধ্যমে একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই লিগ্যাল নোটিশ ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৮১(২) এবং ৮৫(৩) উপ-ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এজিএম সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা আদালতে জানাতে বলা হয়েছে।
১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৮১(২) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো কোম্পানি উপ-ধারা ১ এর বিধান পালনে ব্যর্থ হইলে, কোম্পানির যে কোনো সদস্যের আবেদনক্রমে, আদালত উক্ত কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করিতে অথবা আহ্বান করার নির্দেশ দিতে পারবে এবং আদালত উক্ত সভা আহবান অনুষ্ঠান ও পরিচালনার জন্য যেরূপ সমীচীন বলিয়া বিবেচনা করবে সেইরূপ অনুবর্তী ও আনুষাঙ্গিক আদেশ প্রদান করিতে পারবে।’
৮৫ (৩) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি অনুমোদনযোগ্য কোনো পদ্ধতিতেই সভা আহ্বান করা সম্ভব না হয় বা যদি সংঘবিধি বা এই আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত কোম্পানির সভা পরিচালনা সম্ভব না হয় তাহা হইলে আদালত, উহার নিজ উদ্যোগে বা উক্ত সভায় ভোটদানের অধিকারী হইবেন কোম্পানির এইরূপ কোন পরিচালক বা সদস্যের আবেদক্রমে, যে পদ্ধতি উপযুক্ত মনে করবে সেই পদ্ধতিতে উক্ত কোম্পানির সভা আহবান, অনুষ্ঠান ও পরিচালনার জন্য আদেশ দিতে পারবে, এই আদেশ দানের ক্ষেত্রে আদালত সমীচীন মনে করলে যে কোন আনুষঙ্গিক বা অনুবর্তী আদেশ দান করতে পারবে এবং এইরূপ কোনো আদেশ অনুসারে কোন সভা আহুত, অনুষ্ঠিত এবং পরিচালিত হইয়া থাকিলে, উক্ত সভা সকল উদ্দেশ্যে উক্ত কোম্পানি কর্তৃক আহুত, অনুষ্ঠিত ও পরিচালিত সভা বলিয়া গণ্য হইবে।’

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪০৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged