editorial

ইউএমপি রেট পুন:নির্ধারণের প্রস্তাব বিবেচনা করুন

সময়: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২০ ১:১০:১৭ অপরাহ্ণ


বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য ধার্যকৃত ইউনিফাইড মেসেজিং প্লাটফর্ম(ইউএমপি) হার পুন:নির্ধারণের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’ এ এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, ইতোপূর্বে ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি(আইডিআরএ) প্রতিটি বীমা কোম্পানিকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পলিসি প্রতি ৫ টাকা করে ইউএমপি পরিশোধের নির্দেশ দেয়। ইতোপূর্বে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন(বিআইএ) একাধিক চিঠি দিয়ে ইউএমপি রেট পুন:নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছিল। বিআইএ তাদের পত্রে ইউএমপি হার ৫ টাকার পরিবর্তে ৩ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করে। কারণ এই মুহূর্তে দেশের বীমা খাতের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। কিন্তু আইডিআরএ বাংলাদেশ বীমা অ্যাসোসিয়েশনের সেই প্রস্তাবকে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে গত ৫ ডিসেম্বর এক নির্দেশনায় বীমা কোম্পানিগুলোকে পরবর্তী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে ইউএমপি বাবদ ৫ টাকা করে পরিশোধের জন্য দেশের সব বীমা কোম্পানিকে নির্দেশনা প্রদান করে। এরই প্রেক্ষিতে বিআইএ একটি পত্রের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পূর্বে ইউএমপি বাবদ ধার্যকৃত ৫টাকা করে পরিশোধের নির্দেশনা স্থগিত রাখার জন্য আইডিআরএ’কে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছে। বিআইএ চেয়ারম্যান শেখ কবীর হোসেন প্রসঙ্গক্রমে বলেন, আমরা ইউএমপি পরিশোধে রাজী আছি। তবে পলিসি প্রতি ৫ টাক হারে এটা নির্ধারণ করা হলে তা পরিশোধ করা অনেক কোম্পানির পক্ষেই অসুবিধা হবে। কারণ বীমা ব্যবসায় বর্তমান খুব একটা ভালো চলছে না। তাই আমরা বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় জন্য আইডিআরএ’কে অনুরোধ জানিয়েছি। তিনি আরো বলেন,আমরা প্রয়োজনে আইডিআরএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসতে সম্মত আছি। উল্লেখ্য,উন্নত গ্রহাক সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য আইডিআরএ গত বছর ২৮ জানুয়ারি দেশে ব্যবসায়রত সব বীমা কোম্পানিকে ইউএমপি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বছরে ২০ কোটি টাকা ফি পাবে। এর মধ্যে একটি অংশ ইউএমপি বাস্তবায়নকারি সংস্থাকে সার্ভিস চার্জ বাবদ দিতে হবে। এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে গেলে বীমা কোম্পানিগুলোর অপারেটিং কস্ট কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বীমা ব্যবসায়ের অবস্থা খুব একটা ভালো নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে আরো চিন্তা-ভাবনা প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি। যেহেতু বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নতুন তাই এ ব্যাপারে আরো গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করা যেতে পারে।
আমরা মনে করি, আইডিআরএ এবং বিআইএ কর্র্তৃপক্ষ এক টেবিলে বসে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে উভয় পক্ষের নিকট গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে উপনীত হতে পারবে। এটা করা হলে উভয় পক্ষের জন্যই তা মঙ্গলজনক হবে।

Share
নিউজটি ৪৬৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged