editorial

ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের রপ্তানি ক্রাস পাবার আশঙ্কা

সময়: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০ ১২:৩৬:১৭ পূর্বাহ্ণ


সহযোগি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ইউরোপে জিএসপি সুবিধা: বাংলাদেশের ওপর চাপ আরো বাড়ছে’ শিরোনামে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রপ্তানি খাতের জন্য খবরটি খুবই উদ্বেগজনক। এতে বলা হয়েছে,আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক সামগ্রির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে ভিয়েতনাম। ভিয়েতনাম অনেক দিন ধরেই তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অতিক্রম করে যাবার পরিকল্পনা করছিল। তারা এ জন্য ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভিয়েতনাম তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অতিক্রম করে যাবার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এর চেয়েও বেশি উদ্বেগজনক খবর হচ্ছে, ভিয়েতনাম সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে আগামীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশে ভিয়েতনামের পণ্য সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এতদিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতাদের ভিয়েতনামের পণ্য ও সেবা আমদানির জন্য ১২ শতাংশ হারে শুল্ক প্রদান করতে হতো। কিন্তু এখন আর সেই শুল্ক প্রদান করতে হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানির সুযোগ দিয়ে আসছিল। বাংলাদেশের পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে বিস্ময়কর অগ্রযাত্রার পেছনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি সুবিধা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেযা কোটা সুবিধা বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছিল। ২০০৫ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোটা সুবিধা বাতিল করে দিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত মর্যাদা লাভ করলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেয়া জিএসপি সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। তখন তারা জিএসপি প্লাস সুবিধা প্রদান করবে। কিন্তু জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে হলে যে সব শর্ত পরিপালন করতে হবে তা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। অবশ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ২০২৭ সাল পর্যন্ত তারা বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা প্রদান করবে। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিশেষ করে তারা বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক আমদানি করে থাকে। বাংলাদেশের রপ্তানিকৃত তৈরি পোশাক সামগ্রির ৬২ শতাংশই যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে। ২০১৮-’১৯ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে তৈরি পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে ২১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। ভিয়েতনাম, ভারত এসব দেশ আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ। কিন্তু তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে না। কিন্তু এখন ভিয়েতনাম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করার তাদের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য শুল্কমুক্তভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। ভিয়েতনামের বিশেষ সুবিধা হচ্ছে তারা তৈরি পোশাক শিল্পের বেশির ভাগ কাঁচামালই স্থানীয়ভাবে যোগান দিতে পারছে। কিন্তু বাংলাদেশকে এসব কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। এ মুহূর্তে যদি নতুন বাণিজ্য অঞ্চল খুঁজে বের না করা যায় তাহলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

 

Share
নিউজটি ৪৩০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged