ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্কের আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়ম ও অসঙ্গতি

সময়: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৯, ২০১৯ ১০:১৮:২৫ পূর্বাহ্ণ


নুরুজ্জামান তানিম/সালাহ উদ্দিন মাহমুদ : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি ‘ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেড’- (আইএসএলএল)- এর অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে বেশ কিছু অনিয়ম ও অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। গত ৩১ মার্চ ২০১৯ সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটি সিকিউরিটিজ আইনের বেশ কয়েকটি ধারাও লঙ্ঘন করেছে। এসব অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের ব্যাখ্যা চেয়েছে ডিএসই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটি তার ৯ মাসের (জুলাই ২০১৮-মার্চ ২০১৯) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বৃদ্ধির কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করেনি। কোম্পানিটির আলোচ্য সময়ে ইপিএস দেখিয়েছে ২৮ পয়সা। এর আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ৫ পয়সা লোকসান। এ ৯ মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির ইপিএস ৬৬০ শতাংশ অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কোনো ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। এ ক্ষেত্রে বিএসইসি’র আইন অনুযায়ী- কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন আসলে তার ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। তবে বিএসইসি’র এ নির্দেশনা অনুযায়ী কোম্পানিটি আর্থিক প্রতিবেদনে ইপিএস বৃদ্ধির কোনো ব্যাখা প্রদান করেনি।
কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) এবং ক্যাশ ফ্লো হিসাব করতে বাংলাদেশে প্রযোজ্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএএস) অথবা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস) অনুসরণ করতে হবে। তবে কোম্পানিটি তার আর্থিক প্রতিবেদন তৈরিতে এ স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করেনি।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, কোম্পানিটির পরিচালন আয়ের চেয়ে ইপিএস অধিক হারে বেড়েছে। ৯ মাসে (জুলাই ’১৮-মার্চ ’১৯) পরিচালন আয় হয়েছে ৬ কোটি ৪২ লাখ ৮৩ হাজার ১৯১ টাকা। এর আগের বছর যা ছিল ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৪০ হাজার ১৬৬ টাকা। এতে আলোচ্য সময়ে পরিচালন আয় বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪৩ হাজার ২৫ টাকা বা ৩২ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অন্যদিকে ৯ মাসে (জুলাই ’১৮-মার্চ ’১৯) ইপিএস হয়েছে ২৮ পয়সা। এর আগের বছর যা ছিল ৫ পয়সা লোকসান। সে হিসাবে ইপিএস বেড়েছে ৩৩ পয়সা বা ৬৬০ শতাংশ। এ পরিচালন আয়ের চেয়ে অস্বাভাবিক মুনাফা বৃদ্ধির ব্যাখ্যা অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটি প্রদান করেনি।
কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ দীর্ঘমেয়াদি ঋণের তথ্য উল্লেখ করলেও বর্তমান ঋণের অবস্থার কোনো তথ্য আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেনি। এতে কোম্পানিটি সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে ডিএসই।
এছাড়া কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে ক্যাশ ফ্লো স্টেটমেন্টেও অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছে। কোম্পানিটি তার ক্যাশ ফ্লো হিসাব করেছে ডিরেক্ট মেথডে। তবে এখানে কোম্পানিটি পুনর্গঠিত নিট আয় বা নিট মুনাফায় নন-ক্যাশ আইটেম এবং নন-অপারেটিং আইটেম সমন্বয় না করে ক্যাশ ফ্লো হিসাব করেছে। এর ফলে কোম্পানিটি বিএসইসির নির্দেশনা ভঙ্গ করেছে। সার্বিকভাবে কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে নানা অসঙ্গতি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, কোম্পানিটির মোট রিজার্ভ রয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। স্বল্পমেয়াদি ঋণ রয়েছে ৩ কোটি ৯১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর দীর্ঘমেয়াদি ঋণ রয়েছে ২ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির বর্তমান পিই রেশিও ৬৩ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট। আর অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির বর্তমান পিই রেশিও ৮১ দশমিক ৭০ পয়েন্ট।
৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ লভ্যাংশ সুপারিশ করে। এর মধ্যে ১ শতাংশ নগদ এবং ৪ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। এ সময় ইপিএস ছিল ৪৮ পয়সা। আর এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৫৬ পয়সা। আর ৯ মাসে (জুলাই ’১৮-মার্চ ’১৯) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২৮ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৫ পয়সা। আর ৩ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৯ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৭ পয়সা। এ সময়ে কোম্পানির এনএভি দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৮৪ পয়সা।
কোম্পানিটি ২০০২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির মোট শেয়ারের ২১ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকের কাছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৮ দশমিক ১২ শতাংশ শেয়ার, আর ৭০ দশমিক ২৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে।
গতকাল বুধবার ডিএসইতে ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেডের শেয়ার ৩০ টাকা ৪০ পয়সায় সর্বশেষ লেনদেন হয়।
এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘এসব লোকসানি কোম্পানি নামমাত্র স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত অবস্থায় রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কোম্পানিগুলোর সার্বিক আর্থিক অবস্থা তালিকাভুক্ত থাকার অনুকূলে নয়। এ ধরনের কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’
দৈনিক শেয়াাবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪৫৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged