walton,

ওয়ালটনের আইপিও মন্দা বাজারে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার আশঙ্কা

সময়: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৯, ২০২০ ১১:৪৫:৫১ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা দরপতনে দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা। দরপতনের হাওয়া লেগেছে বাজারে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হওয়া বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানির শেয়ারে। এসব কোম্পানির শেয়ার কাট অফ প্রাইজের নিচে লেনদেন হচ্ছে। আর এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্বনামধন্য কোম্পানি ওয়ালটনের আইপিও বিডিং এর অনুমোদন পেয়েছে। মন্দা বাজারে এই কোম্পানির শেয়ারের দাম নির্ধারণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসা কয়েকটি কোম্পানির তথ্য পর্যালোচনায় জানা গেছে, বাজার থেকে ২০০ কোটি টাকা উত্তোলন করে তালিকাভুক্ত হয়েছে বসুন্ধরা পেপার মিলস। কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের কাট অফ প্রাইস নির্ধারিত হয়েছিল ৮০ টাকা। কোম্পানির অফার প্রাইস ছিল ৭২ টাকা। এ দরে কোম্পানির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনেছে। গতকাল কোম্পানির শেয়ার ৪৪ টাকায় লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিটি অফার প্রাইসের ২৮ টাকা নিচে লেনদেন হচ্ছে। গত এক বছরের মধ্যে অধিকাংশ সময় কোম্পানির শেয়ার দর নিম্নমুখি ধারা অব্যাহত ছিল। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
একই পদ্ধতিতে রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড বাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। কোম্পানিটির কাট অফ প্রাইস নির্ধারিত হয়েছিল ৭৫ টাকা এবং অফার প্রাইস ছিল ৬৭ টাকা। গতকাল কোম্পানির শেয়ার ৫৫ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত ৬ মাসের অধিকাংশ সময় কোম্পানির শেয়ার দর কমছে। কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
শুধু বসুন্ধরা পেপার, রানার অটোমোবাইলস নয় বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে মন্দার বাতাস লেগেছে। ফলে এসব কোম্পানির শেয়ার দর অফার প্রাইসের অনেক নিচে লেনদেন হচ্ছে। এদিকে ফিক্সড প্রাইজ মেথডে গত বছর বাজারে আসা টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বড় আইপিও ছিল রিং শাইন টেক্সটাইল লিমিটেড। কোম্পানিটি বাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হওয়ার এক মাস না যেতেই ফেসভ্যালুর নিচে নেমে গেছে। গতকাল কোম্পানির শেয়ার সর্বশেষ ৮ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা ১ টাকা ১০ পয়সা লোকসানে রয়েছে। এভাবে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আর এমন বাজার পরিস্থিতিতে দেশের স্বনামধন্য কোম্পানি ওয়ালটনের আইপিও বিডিংয়ের অনুমোদন পেয়েছে। দরপতনের বাজারে কোম্পানিটির প্রাইজ নির্ধারণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, বাজারে দীর্ঘ দিন ধরে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনে ২০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। এসময় বাজার থেকে ওয়ালটন ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন পেল। যেখানে বাজারে লেনদেন ঘুরপাক খাচ্ছে ২০০ কোটি টাকার ঘরে সেখানে তার অর্ধেক আলোচ্য কোম্পানি সংগ্রহ করবে। তা কোম্পানির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। আর বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের পর কোম্পানির প্রাইস ধরে রাখতে পারবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, কোম্পানি ভালো, বাজার ইতিবাচক থাকলে বিডিংয়ে ভালো দর পেতো। বর্তমান বাজারেও কোম্পানিটিকে মূল্যায়ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, দীর্ঘ মন্দায় দিন দিন বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। বাজার স্থিতিশীল করতে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। আর এ অবস্থায় ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির আইপিও বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। বাজারে যে ধরনের আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে তাতে ওয়ালটনের প্রাইস নির্ধারণে কোনো ধরনের যোগসাজস ছাড়া সঠিক মূল্য পাবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুর রাজ্জাক বলেন, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে যে তথ্য দিয়েছে তা যদি সঠিক হয় তাহলে ওয়ালটন ভালো কোম্পানি। মন্দা বাজারে কোম্পানির বিডিংয়ের অনুমোদন পেয়েছে, তাতে যদি যোগসাজশে প্রাইজ নির্ধারিত না হয় তাহলে বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবে। মন্দা বাজারে কোম্পানিটির মূল্য নির্ধারণ একটি চ্যালেঞ্জ।
কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপক এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাজারে বহুজাতিক এবং বড় কোম্পানি আনার চেষ্টা করে। এর ধারাবাহিকতায় তারা ওয়ালটন বাজারে আনার কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, আইপিও অনুমোদন দেয়ার এখতিয়ার কমিশনের, সেখানে ইস্যু ব্যবস্থাপকের কোনো হাত নেই।
জানা গেছে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে এস্কয়ার নিট কম্পোজিট লিমিটেড বাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। কোম্পানির শেয়ারে কাট অফ প্রাইস ছিল ৪৫ টাকা এবং অফার প্রাইস ছিল ৪০ টাকা। গতকাল কোম্পানির শেয়ার ২৮ টাকা লেনদেন হয়েছে। কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনায় ছিলেন প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। অপরদিকে আমান কটন ফাইবার্স লিমিটেড বাজার থেকে ৮০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। কোম্পানির কাট অফ প্রাইস ছিল ৪০ টাকা এবং অফার প্রাইস ছিল ৩৬ টাকা। গতকাল কোম্পানির শেয়ার ২১ টাকা ১০ পয়সা লেনদেন হয়েছে। কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার কাজ করেছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।
উল্লেখ্য, বাজারে টানা দরপতনে গতকাল ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ হাজার ২২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন বাজারে লেনদেন হয়েছে ২৭৯ কোটি টাকা।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৮৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged