editorial

কনটেইনার হ্যান্ডেলিং এ বিশ্বের ৬৪তম সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম

সময়: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯ ১০:৪৯:১৫ পূর্বাহ্ণ


গতকালের দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের সাফল্যের উপর একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটি খুবই ছোট পরিসরে প্রকাশিত হলেও যে কোনো বিবেচনায় সংবাদটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত সংবাদে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনের লাইফ লাইন খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরে সাফল্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। এতে বলা হয়েছে, এক বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রাম সামুদ্রিক বন্দর বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় ১০০টি সমুদ্র বন্দরে মধ্যে ৬৪তম স্থানে উঠে এসেছে। আগের বছর চট্টগ্রাম সামুদ্রিক বন্দরে অবস্থান ছিল ৭০তম। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বন্দর আরো একটি সাফল্য অর্জন করেছে। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থ্রি মিলিয়নিয়ার ক্লাবের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। লন্ডনভিত্তিক শিপিং বিষয়ক সবচেয়ে প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ মাধ্যম প্রতি বছর বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় সমুদ্র বন্দরে তালিকা প্রকাশ করে থাকে। ইতোপূর্বে বাংলাদেশ এ তালিকার নিচের দিকেই থাকতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ পণ্য এবং কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে চলেছে। তারই স্বীকৃতি হিসেবে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি এক বছরে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে ২০ ফুট আকারের ৩০ লাখ টিইইউ (টোয়েন্টি ফুট ইক্যুইভ্যালেন্ট ইউনিট) কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ‘থ্রি মিলেনিয়ার’ ক্লাবে স্থান করে নিয়েছে। বছরে ৩০ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করে এমন বন্দরের সংখ্যা বিশ্বের ৬০টি। কাজেই চট্টগ্রাম বন্দরের এই অর্জন যে কোনো বিচারেই উল্লেখের দাবি রাখে। বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে নানা ধরনের দুর্বলতার অভিযোগ পাওয়া যায়। বিশেষ করে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা খুবই নাজুক অবস্থার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে বন্দর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধান নৌবন্দর হচ্ছে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর। কিন্তু এ বন্দরের ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা রয়েছে। ফলে স্থানীয় এবং বিদেশি পণ্য পরিবহনকারীরা নানা অসুবিধায় পতিত হচ্ছেন। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের এ দুর্বলতার কথা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ফলে অনেকেই বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করে থাকেন। বন্দর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার বিষয়টি অবহিত হয়ে সরকার এ সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ব্যবস্থাপনায় অনেকটাই উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ বন্দরে রেটিং বৃদ্ধি পাচ্ছে এটা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তবে আমাদের এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের আরো উন্নতি করতে হবে। আমরা আশা করছি সরকার বিষয়টির উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

Share
নিউজটি ৩৮৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged