কনফিডেন্স সিমেন্টের ইজিএম ৩০ জুলাই : একীভূত হওয়া না-হওয়ার অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা

সময়: রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯ ৪:৫৩:৪৯ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিাবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের কোম্পানি ‘কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড’-এর ৬টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা। একইসঙ্গে অর্ধ-ডজন কোম্পানি কী কারণে একীভূত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের কাছে তা অস্পষ্ট। একীভূত হতে যাওয়া কোম্পানিগুলো হচ্ছেÑ কনফিডেন্স স্টিল লিমিটেড, কনফিডেন্স পাওয়ার লিমিটেড, কনফিডেন্স ইলেকট্রিক লিমিটেড, কনফিডেন্স কংক্রিট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, ইলেকট্রোপ্যাক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও জোডিয়াক ড্রেজিং লিমিটেড। এর মধ্যে কনফিডেন্স ইলেকট্রিক ও কনফিডেন্স পাওয়ার কনফিডেন্স সিমেন্টের অ্যাসোসিয়েট কোম্পানি হিসেবে রয়েছে। আর সিস্টার কোম্পানি হিসেবে রয়েছে ইলেকট্রোপ্যাক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কনফিডেন্স কনক্রিট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও কনফিডেন্স স্টিল লিমিটেড।
ছয় সহযোগী প্রতিষ্ঠানের একীভূত হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোম্পানি সচিব মো. দেলোয়ার হোসেইন ‘শেয়ারাবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘এটি কোম্পানির পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত।’
এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক পরিচালক ও মর্ডান সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুজিস্তা-নূর-ই নাহারিন মুন্নি শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, ‘কোন্ অনুপাতে এতোগুলো কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তর হচ্ছে- এটি সুস্পষ্টভাবে জানানো উচিত। এতে বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে যে, তারা এ কোম্পানির শেয়ার রেখে দেবে, না-কি বিক্রি করে দেবে।’
উল্লেখ্য, কনফিডেন্স সিমেন্টের সঙ্গে একীভূত হতে যাওয়া কোম্পানিগুলোর একীভূতকরণের আবেদনের প্রেক্ষিতে কোম্পানিগুলোর শেয়ারহোল্ডার ও মেম্বারদের অনুমোদনের জন্য ইজিএম এবং ঋণদাতাদের নিয়ে সভা করার জন্য গত ৩ জুলাই নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিগুলো ৩০ জুলাই সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ইজিএম এবং ঋণদাতাদের সভা ডেকেছে। রাজধানীর পান্থপথে ইউটিসি বিল্ডিংয়ে সভা দুটি অনুষ্ঠিত হবে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতের নির্দেশের পর সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন ও পাবলিক লিস্টিং আইন অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডারদের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের বিধান রয়েছে। এটি আদালতের নির্দেশনায়ও থাকে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর একটি সূত্র।
কনফিডেন্স সিমেন্টের নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কনফিডেন্স সিমেন্টের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৬৪ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। মোট শেয়ারের ২৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৫ দশমিক ৮৯ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪৪ দশমিক ২৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। রিজার্ভে রয়েছে ২৭৯ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

বিনিয়োগকারীদের মতে, রিজার্ভ কর এড়াতে কোম্পানিগুলোকে একীভূত করা হচ্ছে। অথচ বিশাল রিজার্ভ থাকার পরও তারা বিগত দুই বছর ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি ২০ শতাংশ করে শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছে।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪৪৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged