editorial

করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে দেশে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

সময়: মঙ্গলবার, মার্চ ৩, ২০২০ ১২:১০:২৫ পূর্বাহ্ণ


একটি সহযোগি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চীনে উদ্ভুত এবং পরবর্তীতে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতির জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এতে বলা হয়, এ বছর চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার অন্তত ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। এটা হবে মূলত করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে। আগে বলা হয়েছিল চীন এ বছর ৬দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। এখন বলা হচ্ছে এটা ৪ দশমিক ১ শতাংশের বেশি হবে না। সামগ্রিকভাবে বিশ্ব জিডিপি ১ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। চীনের সঙ্গে যেহেতু বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্য রয়েছে তাই সব দেশই করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশঙ্কা রয়েছে। আরো একটি উদ্বেগজনক খবর হচ্ছে করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ব শেয়ার বাজারে ধ্বস নামার আশংকা দেখা দিয়েছে। দেশে দেশে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ হ্রাস পাবার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামীতে শেয়ার বাজারে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সপ্তাহটি ছিল শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল, এমনকি বিলিয়য়োরদের জন্যও। করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় বিত্তবান ব্যক্তিগণ বিভিন্ন দেশে বিনিয়োজিত পুঁজি হারিয়েছেন ব্যাপকভাবে। খুইয়ে ফেলা পুঁজির পরিমাণ ৪৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। ডাউ জোনস শিল্প সূচক গত এক সপ্তাহে পতন ঘটেছে ১২ শতাংশের বেশি। এটা ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ দরপতন। গত সপ্তাহে শেয়ার বাজারের এই বিপর্যয়ের কারণে বৈশ্বিক শেয়ারের প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার লাপাত্তা হয়ে গেছে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার সূচকে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় ৫০০ ব্যক্তি সম্পদ কমেছে ৭ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। সবচেয়ে বেশি লোকসান গুনেছে বিশ্বের শীর্ষ তিন ধনী ব্যক্তি আমাজন ডটকমের জেফ বোজোস, মাইক্রো সফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও এলভিএমএইচের চেয়ারম্যান বেহনা আহনু। তাদের মোট সম্পদ কমেছে ৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। তাদের সম্পদে কমার মূল কারণ হচ্ছে চীনে দেখা দেয়া করোনা ভাইরাস। বিশেষ করে বিশ্ব শেয়ারবাজারে করোনা বাইরাসের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও এর প্রভাব অত্যন্ত বেশি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেছেন,তার দেশ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষতি মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তারপরও তারা শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।
করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতোমধ্যেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চীনের অর্থায়ন এবং এক্সপার্টদের দিয়ে যে সব মেগা প্রকল্পের কাজ করানো হচ্ছে সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিতভাবেই বিলম্বিত হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত আগে বলেছিলেন, চীনের করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প বিঘ্নিত হবে না। কিন্তু অতি সম্প্রতি তিনি তার আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে বলেছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের বাস্তবায়নাধীন মেগা প্রকল্পের কাজ নিশ্চিতভাবেই বিলম্বিত এবং বিঘ্নিত হবে। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। উন্নয়ন কার্যক্রমে বাংলাদেশ বর্তমানে বেশ এগিয়ে আছে। অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে তা কোনোভাবে করোনা ভাইরাস দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়লে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে বাধ্য। কর্তৃপক্ষীয় পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই উদ্যোগ মোটেও পর্যাপ্ত নয়। আমাদের আরো অনেক কিছু করতে হবে। অন্যথায় বৈশ্বিক পর্যায়ে করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্যান্য উন্নত দেশের মতো ক্ষতি মোকাবেলায় সক্ষম নয়। তাই বিষয়টি গভীর ভাবে চিন্তা-ভাবনার দাবী রাখে।

Share
নিউজটি ৫২৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged