বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ

কারসাজি চক্রের সাথে জড়িত নর্দার্ন জুট

সময়: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯ ১২:০২:৪৪ পূর্বাহ্ণ


সাইফুল শুভ : শেয়ার কারসাজি চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠেছে নর্দার্ন জুটের বিরুদ্ধে। বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে বলেন, কোম্পানিটি লোকসান থেকে ইপিএস ৭ টাকা দেখিয়েছে যা মনগড়া। কীভাবে এক প্রান্তিকেই কোম্পানিটি লোকসান কাটিয়ে এত টাকা ইপিএস দেখিয়েছে। এটা অবশ্যই কোম্পানিটি শেয়ারের দরকে প্রভাবিত করার জন্য করা হয়েছে। সঠিক তদারকি না থাকায় এ সুযোগ পাচ্ছে কোম্পানিটি। যেখানে ভালো অনেক কোম্পানি আছে যাদের অর্থনৈতি অবস্থা অনকে শক্তিশালী। অথচ সেসব কোম্পানির শেয়ার দর ধারাবাহিকভাবে কমেছে। সেখানে কীভাবে নর্দার্ন জুটের কোম্পানির দর এত বেশি দরে লেনদেন হচ্ছে। গত বছরের লোকসান থেকে হঠাৎ আয় বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখার দাবি বিনিয়োগকারীদের।

জানা গেছে, আগের বছর অর্থাৎ ৩০ জুন ২০১৮ পর্যন্ত যেখানে নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড লোকসানের কারণে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। সেখানে এ বছর ৯ মাসেই শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ১২ পয়সা। ২০১৮ সালে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১৭ টাকা ১৫ পয়সা।

বর্তমানে কোম্পানির শেয়ারের প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) ৭৫ টাকা ১৬ পয়সা। গত ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানি শেয়ারের দর ছিল ৩২৫ টাকা। আর এ বছর ২৮ সেপ্টেম্বর কোম্পানির শেয়ারের দর এক হাজার ১৯ টাকা।

জানা গেছে, শেয়ার সংখ্যা কম হওয়ায় কারসাজি চক্রগুলো বেছে নেয় ছোট মূলধনী কোম্পানি। কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা মাত্র ২১ লাখ ৪২ হাজার। আর সেই সুযোগ করে দেয় কোম্পানিগুলো। বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করছেন, ২০১৮ সালে কোম্পানি লোকসান দেখিয়ে কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। আবার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে ২০ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছিল। এবছর যে হারে ইপিএস দেখাচ্ছে হয়তো লভ্যাংশ দিবে। কোম্পানি ইচ্ছে মতো ঘোষণা দিচ্ছে। আর সেই সুযোগ নিচ্ছে কারসাজি চক্র।

এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিন মিয়া ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘কোম্পানিগুলো গেম্বলার চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েছে, স্পষ্ট বুঝা যায় নর্দার্ন জুটের দিকে তাকালেই। যে কোম্পানির এনএভি ৭৫ টাকা, সেই কোম্পানির শেয়ার কী কারণে এক হাজার ১৯ টাকায় বিক্রি হবে? আর তারা কেন হঠাৎ লোকসান দেখায়, আবার মুনাফা দেখায়! এটি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বা স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। এক বছর আগেও যে শেয়ারের দর ছিল ৩৪০ টাকা এক বছরের মধ্যে দর বেড়ে হাজার টাকা ছাড়ালো। এর মধ্যে কারা এ শেয়ার কিনলো খতিয়ে দেখলেই চক্রটির হদিস মিলবে।’

গত বছরের লোকসান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উৎপাদন প্রসঙ্গে কোম্পানি সচিব ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তার (সিএফও) দুই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কোম্পানি সচিব জানান, গত বছর তাদের উৎপাদন বন্ধ ছিল। অন্যদিকে সিএফও জানান, কাঁচামাল ক্রয়ে খরচ বৃদ্ধি ও উৎপাদিত পণ্যের মূল্য কমে যাওয়ায় লোকসান হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড’-এর সিএফও উজ্জ্বল কান্তি ধর ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন‘-কে বলেন, ‘কাঁচামাল ও বাজার মূল্য কী হবেÑ এখানে কারও হাত নেই। তাই কোম্পানি যা ব্যবসা করবে, তার ওপরই ইপিএস ঘোষণা করবে। আর কোম্পানির শেয়ার কেন ১ হাজার টাকার ওপর বিক্রি হচ্ছেÑ এটি বিনিয়োগকারীরাই বলতে পারবে। যারা কিনেছে, তাদের কাছে জিজ্ঞেস করুনÑ কেন তারা এত উচ্চ দরে শেয়ার কিনছে।’

নর্দার্ন জুটের পরিশোধিত মূলধন মাত্র ২ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। ২০১৪ সালে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ শেয়ার, ২০১৫ সালে ২০ শতাংশ নগদ, ২০১৬ সালে ৫ শতাংশ নগদ, ২০১৭ সালে ২০ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ দেয়। ২০১৮ সালে কোনো লভ্যাংশই দেয়নি।

১৯৯৪ সালে পাট খাতের এ কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। ৩১ আগস্ট ২০১৯ পর্যন্ত কোম্পানির পরিচালকদের হাতে ২১ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং বাকি ৭৮ দশমিক ৯১ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৭২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged