editorial

কিস্তি আদায়ের মাধ্যমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে হবে

সময়: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০ ১২:২৯:২২ পূর্বাহ্ণ


গতকালের দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন এ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য সূত্র উল্লেখ করে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, ‘১০ বছর মেয়াদি পুন:তফসিলিকরণ সুবিধায় কমেছে খেলাপি ঋণ।’ প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সম্প্রতি এককালীন ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট প্রদান সাপেক্ষে খেলাপি ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে তা ব্যবহার করে ঋণ খেলাপিদের অনেকেই তাদের ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণ করিয়ে নিয়েছেন। ফলে অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯ প্রান্তিকে ব্যাংকিং সেক্টরের খেলাপি ঋণের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এসেছে। এখন দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ খেলাপি ঋণ পুন:তফসিলিকরণের এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ব্যাংকিং সেক্টর খেলাপি ঋণের পরিমাণ তিন মাসের ব্যবধানে ২২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে এনেছে। সর্বশেষ প্রাপ্তিকে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। অবশ্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪২০ কোটি টাকা। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্যাংকিং সেক্টরে মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১০ লাখ ১১ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল দায়িত্ব গ্রহণের পর এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, আজ থেকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক টাকাও বাড়বে না। তখন ব্যাংক সংশ্লিষ্টগণ মনে করেছিলেন, অর্থমন্ত্রী হয়তো খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চলেছেন। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই দেখা গেলো, খেলাপি ঋণের কিস্তি আদায়ের পরিবর্তে ঋণ খেলাপিদের বিশেষ কিছু সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই একটি পদক্ষেপ ছিল খেলাপি ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণে বিশেষ সুবিধা প্রদান। আগে কোনো ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণ করতে হলে মোট ঋণের ১০ শতাংশ অথবা খেলাপি ঋণাঙ্কের ১৫ শতাংশ এককালীন ডাউন পেমেন্ট হিসেবে ব্যাংকে জমা দিতে হতো। তারপর বিশেষ কিছু শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে একটি ঋণ হিসাব ৩ বছরের জন্য পুন:তফসিলিকরণ করা হতো। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং সেক্টরে বেশ কিছু আইনি সংস্কার করা হয়েছে। এসব আইনি সংস্কারের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে দেখানো যাবে কিন্তু কিস্তি আদায়ের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ না কমানো গেলে ব্যাংকিং সেক্টরের অবস্থা কখনোই ভালো হবে না। ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণ হচ্ছে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বা সিডিউল পরিবর্তন করা। এককালীন ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে এক বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণ করা হয়েছে। এছাড়া ঋণ হিসাব অবলোপন সংক্রান্ত নীতিমালাও সহজীকরণ করা হয়েছে। আগে একটি ঋণ মন্দ ঋণ হিসেবে শ্রেণিকৃত হবার পর ৫বছর অতিক্রান্ত হলে উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের এবং সংশ্লিষ্ট ঋণাঙ্কের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ পূর্বত তা অবলোপন করা যেতো। সংশোধিত আইনে অবলোপনের সময়সীমা তিন বছর করা হয়েছে। শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ এবং উপযুুক্ত আদালতে মামলা দায়েরের শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে খেলাপি ঋণের কিস্তি আদায় না করেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে দেখানো যাবে। যার নমুনা ইতোমধ্যেই আমরা লক্ষ্য করছি। আসলে ব্যাংকিং সেক্টরের খেলাপি ঋণের অবস্থা কেমন তা বুঝা যাবে পুন:তফসিলিকৃত ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় এলেই। ঋণ গ্রহীতারা যদি সেই সময় সঠিকভাবে ঋণ পরিশোধ না করেন তাহলে ব্যাংকিং সেক্টরে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
সরকার একটি মহতী উদ্দেশ্যে ঋণ খেলাপিদের বিশেষ কিছু সুবিধা প্রদান করেছেন। আমরা আশা করবো ঋণ খেলাপিরা সরকারের এই সদিচ্ছার প্রতি সম্মান দেখাবেন। একই সঙ্গে যারা ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি তাদের নিকট থেকে ব্যাংকের পাওনা ঋণ আদায়ের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

Share
নিউজটি ৩৯১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged