গ্রামীণ-রবির সঙ্গে বিটিআরসি’র বিরোধ নিষ্পত্তি আদালতে : অর্থমন্ত্রী

সময়: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৩১, ২০১৯ ৯:৩২:২৪ পূর্বাহ্ণ


বিশেষ প্রতিবেদক : দেশের দুই শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি এবং বিটিআরসি সব ধরনের বিরোধ থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে ইতোপূর্বে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। কিন্তু সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এখন বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
প্রসঙ্গত: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দাবি অনুযায়ী, গ্রামীণফোন ও রবির কাছে প্রতিষ্ঠানটির পাওনা ১৩ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি টাকা। এ টাকা আদায়ে ব্যান্ডউইডথ সীমিত এবং প্যাকেজ ও সরঞ্জামের ছাড়পত্র (এনওসি) দেয়া বন্ধ করেছিল বিটিআরসি। তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় ৫ সেপ্টেম্বর দুই অপারেটরকে লাইসেন্স (টু-জি ও থ্রি-জি) বাতিল কেন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণফোন ও রবির সাথে টেলিকম মন্ত্রী ও বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সাথে কয়েক দফা বসা হয়েছিল। শুরুতে বলা হয়েছিল তোমাদের হিসাবে তো কিছু টাকা পাই, তো কিছু পেমেন্ট করো। সেই টাকা না দেয়াতে আলোচনা এগিয়ে যায়নি। এর আগেই তাদের কোর্ট কেইস হয়ে গেছে। কোন মামলা হয়ে গেলে এসবের বিষয়ে আমরাও নিস্পত্তি করতে বা সুরাহা করতে পারবো না, কোর্টের মাধ্যমে সুরাহা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সার্বিক বিবেচনায় আমরা ভাবলাম সময় তাদের দিয়েছিলাম এবং তারা চুক্তিও করলো আমাদের সাথে তারা কমপ্ল্যায়েন্সে নেবে কিনা, তারা কমপ্ল্যায়েন্সে নিতে পারেনি, তাদের আবার বোর্ড মিটিং করতে হবে সেজন্য হয়নি। আশা করি হয়ে যাবে কিছু না কিছু হবেই ডেফিনেটলি। ’
তিনি বলেন, বিষয়টি এখন কোর্টে আছে সে জন্য এ বিষয়ে আর কথা বলতে চাই না। কোটর্ট থেকে যেটা হবে সেটা তাদেরও মানেত হবে আমাদেরও মানতে হবে।
প্রশাসক বসানোর বিষয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুই পক্ষের মাঝে মিমাংসা করতে হলে হয় কোর্ট, নয় আর্বিট্রেশন। এটি আর্বিট্রেশনের অংশ। এখানে দশ-বিশ টাকা নয়, অনেক টাকা। আমাদের কথা হচ্ছে, আমাদের ক্লেইম একটা অ্যামাউন্ট, তাদের হিসাবে আরেকটি অ্যামাউন্ট, ডিফারেন্স কিন্তু হিউজ। ছোট ছোট অ্যামাউন্ট হলে নিজেরাই বসে সুরাহা করতে পারতাম। তারাও চায় কোর্টের মাধ্যমে হয়ে গেলে সুরাহা হয়। আমরাও মনে করি কোর্টের মাধ্যমে হয়ে গেলে ভালো যদি হয় সবার জন্য ভালো হবে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি এ সমস্ত ক্ষেত্রে বারবার কোর্টে না গিয়ে কোর্টের বাইরে সমাধান হওয়া উচিত। তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর আমরাও সরকার যেভাবে এগিয়ে এসেছিলাম। সরকারি মনোভাব দেখাইনি, আন্তরিকভাবে এগিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সে ধরনের সহযোগিতা পাইনি। অনেকদিন অপেক্ষা করা হয়েছে, টাকা দেবে, টাকা দেবে, টাকা তারা দেয়নি। আমাদের যে পাওনা আছে টাকা না দিলে কী নিয়ে আলোচনা করবো। যদি টাকা কিছু দিত তাহলে বুঝতাম আন্তরিকতা আছে।
তিনি আরও বলেন, আমার প্রাপ্তি আমি চেষ্টা করেছি, আমার করণীয় আমি করেছি। কোর্টের সিদ্ধাতের বাইরে কেউ যেতে পারবে না। তবে সময় লাগবে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩০৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged