editorial

চীনের করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই

সময়: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ ১২:২৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ


চীনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে করোনা ভাইরাস কিভাবে এবং কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ি সংগঠনগুলো চীনের করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তা নিরূপনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে বাণিজ্য সংগঠনগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন করতে পারেনি। তারা আরো কয়েক দিন সময় চেয়েছে। আমরা হয়তো অচিরেই চীনের করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তার একটি সম্ভাব্য পরিসংখ্যান পেয়ে যাবো। সরকারের নীতি নির্ধারকগণ থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবসায়ি-উদ্যোক্তা সবাই এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
তবে অনেকেই মনে করছেন, চীনের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ আমাদের জন্য সুখবর নিয়ে আসতে পারে। বর্তমানে চীন বিশ্বব্যাপী পণ্য বাজার দখল করে আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগি হচ্ছে চীন। বাংলাদেশ ও চীন এমন অনেক পণ্য রপ্তানি করা যা একই নেচারের। কাজেই উন্নত দেশের ক্রেতারা যদি করোনা ভাইরাসের কারণে চীনের পণ্যের উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় সেটা আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হতে পারে। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুটে অনুষ্ঠিত রপ্তানি পণ্য প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী দর্শক-ক্রেতারা এমনটাই জানিয়েছেন। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ৩৪টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। তারা বলছেন, চীনে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ছাড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারের ক্রেতারা দেশটির রপ্তানি পণ্যের উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। সে রকম সম্ভাবনা ইতোমধ্যেই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এই প্রদর্শনীতে অংশ গ্রহণকারি বাংলাদেশি একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন,চীনে করনো ভাইরাস নামক মারাত্মক সংক্রমণ ব্যধি ছড়িয়ে পড়েছে এটা খুবই দু:খজনক। কিন্তু এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছ্ েযারা এতদিন চীন থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রি আমদানি করতো এখন তারা বিকল্প বাজার হিসেবে সাময়িকভাবে হলেও বাংলাদেশের পণ্য আমদানির জন্য আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অনেক প্রতিষ্ঠান চীন থেকে পণ্য আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। তারা বাংলাদেশ, ভিয়েতনামের মতো দেশ থেকে বর্ধিত হারে পণ্য আমদানির জন্য ক্রয়াদেশ দিচ্ছে। বিশেষ করে করোনা ভাইরাসের কারণে তৈরি পোশাক আমদানিকারকগণ অন্য দেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানির জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বিন্দি হচ্ছে চীন, ভারত ও ভিয়েতনাম। আমরা কারো দু:খে হাসতে চাই না। কিন্তু বাস্তবতা এটাই যে এতদিন যেসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান চীন থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করছিল তারা এখন বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। ভারত, ভিয়েতনাম এসব দেশও প্রচুর পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি করে থাকে। কিন্তু নানা কারণেই তাদের তৈরি পোশাক সামগ্রির উৎপাদন ব্যয় বাংলাদেশের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কিছু দেশ ও অঞ্চল থেকে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ শুল্ক ছাড় পেয়ে থাকে। চীনে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তাকে কাজে লাগানোর জন্য আমাদের এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে যে সাময়িক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে তা অচিরেই কেটে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সময় কারো জন্যই অপেক্ষা করে না। আমরা যদি এই মুহূর্তে চীনের করোনা ভাইরাস জনিত কারণে বিশ্ববাণিজ্যে যে রূপান্তর ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তা কাজে লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ না করি তাহলে আগামীতে আমাদের পস্তাতে হবে। তাই এখনই জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

 

Share
নিউজটি ৫০২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged