editorial

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিতকরণ

সময়: Sunday, December 22nd, 2019 9:51:07 am


রাষ্ট্র মালিকানাধীন এবং বিশেষায়িত ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্দেশে বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে, বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায় এবং ব্যাংকিং সেক্টরে তদারকি জোরদার করার জন্যই এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক নানাভাবে চেষ্টা করা সত্ত্বেও খেলাপি ঋণ আদায়ে তেমন কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনা প্রয়োজনে অথবা কম জরুরি প্রয়োজনে বিদেশ সফর নিরুৎসাহিত করার জন্যই এ আদেশ জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ব্যাংকিং সেক্টরের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন যারা সুযোগ পেলেই বিদেশ ভ্রমণে যেতে চান। এতে ব্যাংকের স্বাভাবিক কাজ-কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ঋণ আদায় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বিদেশে গেলে অথবা টেবিলে না থাকলে স্বাভাবিক কাজ-কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে সার্কুলার জারি করা হয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী। তবে এ প্রবণতা শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক বা ব্যাংকিং সেক্টরেই নয় সব সেক্টরেই হচ্ছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মধ্যে কারণে-অকারণে বিদেশে ভ্রমণে যাবার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। কিছুদিন আগে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন কর্মকর্তা পুকুর খননের কাজে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য আফ্রিকার একটি দেশে গিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, আফ্রিকার দেশগুলো এমনিতেই মরুময়। সেখানে পুকুর খনন কাজে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য গমন করাটা যে কোনো বিবেচনায়ই একটি হটকারী সিদ্ধান্ত। কিছু কর্মকর্তা আছেন যারা সুযোগ পেলেই রাষ্ট্রীয় অর্থে অথবা উন্নয়ন সহযোগীদের আর্থিক সহায়তার বিদেশে গমন করেন। কখনো প্রশিক্ষণে নামে অথবা অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তারা বিদেশে গমন করেন। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিদেশ বিলাস কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য যে সার্কুলার জারি করেছে তা বিবেচনায় নিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জন্য একই ধরনের আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে।

নিউজটি ১০৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged