জিএফআই’র অর্থপাচারের তথ্য আমার কাছে নেই : অর্থমন্ত্রী

সময়: বুধবার, মার্চ ৪, ২০২০ ৬:১১:৪৬ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেনেছন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) অর্থপাচার সংক্রান্ত তথ্য আমার কাছে নেই। তিনি বলেন, জিএফআই’র অর্থপাচারের প্রতিবেদনের তথ্য আমার নলেজে নেই। তাদের কাজই হলো এই সমস্ত তথ্য বের করা, তথ্য বিশ্লেষণ করা। জিএফআই’র যদি কোন বক্তব্য থাকে তাহলে তো আমাকে জানাবে! পত্রিকায় এই সমস্ত তথ্য দিয়ে কি লাভ?
আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গতকাল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সাত বছরে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ হাজার ২৭০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় যা সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা। যা দেশের চলতি বছরের (২০১৯-২০২০) জাতীয় বাজেটের প্রায় সমান। প্রতি বছর গড়ে পাচার হয়েছে প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, জিএফআই আমাকে দেখতে পায় না। সরকার দেখতে পায় না? তারা আইডিয়ার উপরে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। আইডিয়া দিয়ে অনেক কিছু করা যায়। যেহেতু বিষয়টা জানি না, এই বিষয়ে কিছু বলবো না। তারা এই তথ্য কোথায় পেয়েছে? আমি বলে দিলাম বছরে আমেরিকা থেকে ৩০ হাজার লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে যায়। তাহলেই হয়ে গেল, প্রশ্ন রাখেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থ পাচার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, যেহেতু এই বিষয়ে জানি না এই বিষয়ে কথা বলবো না। বিষয়টা আমরা দেখবো ও বিশ্লেষণ করবো। পরে আপনাদের জানাবো। বর্তমানে আমার নলেজে নাই। এই তথ্য আমার কাছেও নেই।
অর্থপাচার রোধে সরকারের করণীয় কি জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার তো এই বিষয়ে জানেই না। সরকারকে তো আগে জানতে হবে। বাংলাদেশে তথ্য আসেনি। তথ্য আসলে তো আমি জানতাম। আমি সরকারের একটা অংশ। সরকারের কাছে তথ্য এল আমি পেতাম। যদি এখান থেকে টাকা চলে যায় তাহলে তো অর্থমন্ত্রণালয়ের টাকাই যাবে।
টাকা পাচারে কোন পদক্ষেপ নেবেন কি? এমন প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, এই বিষয়ে মামলা ছাড়া কি করতে পারি। কারোর কিছু অপরাধ আসলে মামলা করি। মামলে করলে দুদক থেকে শুরু করে সরকারের অন্যান্য তদন্ত সংস্থা ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। কাউকে জেলে পাঠায়, কেউ আবার মুক্তি পায়।
ব্যবসায়ীরা কানাডায় বাড়ি করছে এই বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আপনারা অর্থমন্ত্রী হলে কি করতেন? আমরাও পদক্ষেপ নিচ্ছি। অনেক মামলা করি অনেকে জেলে আছে। তবে সর্বশেষ বিষয়টা আদালত দেখেন।
প্রসঙ্গত, দেশ থেকে অস্বাভাবিক হারে টাকা পাচার বেড়েছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে এক হাজার ১৫১ কোটি ডলার। দেশীয় মুদ্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা। এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে চারটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। পাচারের এ পরিমাণ ২০১৪ সালের চেয়ে বেড়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জিএফআই’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই প্রক্রিয়ায় এই অর্থ পাচার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রফতানিতে মূল্য কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং)।
জিএফআই’র তথ্যমতে, গত সাত বছরে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ হাজার ২৭০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় যা সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা। যা দেশের চলতি বছরের (২০১৯-২০২০) জাতীয় বাজেটের প্রায় সমান। প্রতি বছর গড়ে পাচার হয়েছে প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা। টাকা পাচারে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নাম।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৫৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged