২০১৯ সাল

জীবন বীমা খাতের মোট বিনিয়োগ ৩২ হাজার কোটি টাকা

সময়: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০ ১২:২০:১২ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : গত বছর জীবন বীমা খাতের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৮৩০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। বিনিয়োগের এ পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি। ইন্স্যুরেন্স ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (আইডিআরএ) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে জীবন বীমা খাতের বিনিয়োগ ছিল ৩১ হাজার ৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের বছর ছিল ২৯ হাজার ৯৩৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

এদিকে গত বছর জীবন বীমা খাতের বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে জীবন বীমা খাতের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৬৬১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে এটা ছিল ৩৮ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে জীবন বীমা খাতের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ৫২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

সম্প্রতি জীবন বীমা কোম্পানির সম্পদ বিনিয়োগ ও সংরক্ষণ প্রবিধানমালা ২০১৯ চূড়ান্ত করেছে আইডিআরএ, যা গত ১৯ নভেম্বর গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন বিধি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনুমোদিত ও স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির অগ্রাধিকার বা সাধারণ শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ও ইউনিট ফান্ড এবং ডিবেঞ্চারে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত হারে মোট সম্পদের ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবে জীবন বীমা কোম্পানিগুলো। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার বা সাধারণ শেয়ারে সম্পদের ২৫ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড ও ইউনিট ফান্ডে ২০ শতাংশ এবং ডিবেঞ্চারে সম্পদের ১০ পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যাবে। তবে কোনভাবেই ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারে বিনিয়োগ করা যাবে না।

প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, জীবন বীমা কোম্পানিগুলো সম্পদের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ‘এ’ ক্যাটাগরির তফসিলি ব্যাংকে আমানত হিসেবে গচ্ছিত রাখতে পারবে। তবে শর্ত হলো, কোন একটি ব্যাংকে গচ্ছিত স্থায়ী আমানত , চলতি আমানত, আংশিক স্থায়ী বা আংশিক চলতি আমানতের পরিমাণ সম্পদের ১০ শতাংশের বেশি হবে না। প্রবিধানমালায় আরও বলা হয়েছে, সম্পদের ১০ শতাংশ পর্যন্ত ‘এ’ ক্যাটাগরির আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী আমানত হিসেবে বিনিয়োগ করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো কোনো একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানতের পরিমাণ ২ শতাংশের বেশি হবে না।

সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে বিনিয়োগের বিষয়ে প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদনক্রমে মোট সম্পদের ১০ শতাংশ সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারবে জীবন বীমা খাত। একইভাবে জীবন বীমা কোম্পানির সম্পদের ৫ শতাংশ বিনিয়োগ করা যাবে অন্যান্য প্রকারের সম্পদে।

নতুন প্রবিধানমালা অনুযায়ী, সম্পদের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে পারবে জীবন বীমা কোম্পানিগুলো। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের গ্যারান্টিযুক্ত ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ইস্যুকৃত ‘ডাবল এ’ ক্যাটাগরির বন্ডে সম্পদের ১৫ শতাংশ বিনিয়োগ করা যাবে। এদিকে সিটি করপোরেশন কর্তৃক ইস্যুকৃত ডিবেঞ্চার বা অন্যান্য সিকিউরিটিজে সম্পদের সম্পদের ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছে জীবন বীমা কোম্পানিগুলো।

প্রবিধানমালায় স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগের বিষয়ে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশন বা কোন পৌরসভায় অবস্থিত দায়হীন সম্পত্তিতে মোট সম্পদের ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগের সুযোগ পাবে জীবন বীমা কোম্পানিগুলো। তবে সম্পত্তি আবাসিক কাজে ব্যবহার করা হলে সম্পদের ২ শতাংশ এবং দাপ্তরিক বা দোকান হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেয়া হলে সম্পদের ৫ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করা যাবে না।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

 

Share
নিউজটি ৩২২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged