গ্রাহকদের বঞ্চিত করে,তাদেরই ক্ষুদ্র সঞ্চয় দিয়ে কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে নিজেদের লাভজনক অবস্থান ধরে রেখেছে

জীবন বীমা খাতে আয় ও সম্পদ বাড়লেও কমছে গ্রাহক সংখ্যা

সময়: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০ ১:২১:৫৫ পূর্বাহ্ণ


অনুপ সর্বজ্ঞ : জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর আয় বাড়ছে ধারাবাহিক ভাবে, বাড়ছে সম্পদের পরিমাণও। তবে আয় ও সম্পদ বাড়লেও এর সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না জীবন বীমা খাতের গ্রাহকরা। আস্থাহীনতার কারণে প্রতি বছরই মাঝপথে ঝরে পড়ছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পলিসি। কমছে গ্রাহক সংখ্যা। অথচ বীমা গ্রহীতাদের বঞ্চিত করে, তাদের ক্ষুদ্র সঞ্চয় দিয়ে কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে নিজেদের লাভজনক অবস্থান ধরে রেখেছে।

বীমা খাতের মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) চেয়ারম্যান শেখ কবীর হোসেন বলেন, অবশ্যই শেয়ারবাজারে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর লাভজনক অবস্থানের পেছনে বীমা গ্রাহকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কারণ জীবনের বীমা করাই তাদের মূল ব্যবসা। তাই আয় বাড়লেও গ্রাহক সংখ্যা কমে যাওয়া খাতটির জন্য ইতিবাচক নয়। কোম্পানিগুলোর উচিত গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। একই সঙ্গে সচেতনতা মূলক পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

ইন্স্যুরেন্স ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি’র (আইডিআরএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জীবন বীমা খাতের মোট ব্যবসার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬০৮ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। ২০১৮ সালে কোম্পানিগুলোর মোট ব্যবসার পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৯৯২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ২০১৭ সালে এটা ছিল ৮ হাজার ১৯৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

এদিকে গত তিন বছরে ধারাবাহিক ভাবে কমছে জীবন বীমা গ্রাহকের সংখ্যা। ২০১৯ সালে জীবন বীমার গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৯০ লাখ ২০ হাজার, যা এর আগের বছর ছিল ১ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার। ২০১৭ সালে খাতটির গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে এ খাতে গ্রাহক সংখ্যা কমেছে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জীবন বীমা খাতের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ৬৬১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা ২০১৮ সালে ছিল ৩৮ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে জীবন বীমা খাতের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ৫২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে জীবন বীমা খাতের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৫ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এদিকে, কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণও বেড়েছে। গত বছর জীবন বীমা খাতের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৮৩০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এটা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি। ২০১৮ সালে জীবন বীমা খাতের বিনিয়োগ ছিল ৩১ হাজার ৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা এর আগের বছর ছিল ২৯ হাজার ৯৩৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

আইডিআরএ বলছে, বীমা গ্রহীতারাই বীমা কোম্পানির চালিকাশক্তি। গ্রাহকদের জীবনকে সুরক্ষিত রাখা জীবন বীমা কোম্পানির কাজ। তাই গ্রাহক সংখ্যা কমে যাওয়া কোনভাবেই ইতিবাচক নয়। সাময়িকভাবে আয় বাড়লেও দীর্ঘ মেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে খাতটিতে।

আইডিআরএ’র সদস্য বোরহান উদ্দীন আহমেদ দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, বীমা কোম্পানির মোট সম্পদের ৯০ শতাংশের মালিক গ্রাহকরা, বাকি ১০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। বীমা ব্যবসা করে কোম্পানিগুলো যে আয় করছে তা দিয়েই গড়ে তুলছে সম্পদের পাহাড়। বীমা কোম্পানির সঞ্চিত অর্থ দিয়েই শেয়ারবাজারে কোম্পানিগুলো নিজেদেরকে লাভজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে। তাই কোম্পানিগুলোর প্রথম কাজ হলো গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানো। কারণ একবার যদি গ্রাহক এই খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় কোনভাবেই কোম্পানিগুলো টিকে থাকতে পারবেনা।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৫৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged