তিনবার সময় বাড়িয়েও আইপিও’র অর্থ ব্যবহারে ব্যর্থ রিজেন্ট টেক্সটাইল

সময়: মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯ ৪:৩৮:১৪ পূর্বাহ্ণ


সালাহ উদ্দিন মাহমুদ : গত সাড়ে তিন বছরে তিনবার সময় বাড়িয়েও প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থ পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারেনি ‘বি’ ক্যাটাগরির ‘রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস’। আইপিও’র অর্থ ব্যবহারে কোম্পানিটিকে সর্বশেষ গত ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। উল্লেখিত সময়সীমা ইতোমধ্যে উত্তীর্ণ হয়ে হলেও পুনরায় সময় বাড়ানোর জন্য কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে আইপিও’র অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারে ‘রিজেন্ট টেক্সটাইল’ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাইতে পারে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে আগামী ২৯ আগস্ট বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) ডেকেছে কোম্পানিটি।

উল্লেখ্য, কারখানার সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন (বিএমআরই) এবং নতুন আরএমজি প্রকল্পের জন্য পুঁজিবাজার থেকে সাড়ে তিন বছর আগে (ডিসেম্বর, ২০১৫) ১২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে ‘রিজেন্ট টেক্সটাইল’। এর মধ্যে বিএমআরই’র জন্য ১২ মাস এবং নতুন আরএমজি প্রকল্পের জন্য ১৮ মাস সময় নেয়। কোম্পানির প্রসপেক্টাস অনুযায়ী বিএমআরই সম্পন্ন করার সময়সীমা ছিল ২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর। এটিকে প্রথম দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর এবং তৃতীয় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৯ সালের ৩০ জুন করা হয়। আর নতুন আরএমজি প্রকল্প সম্পন্ন করার সময়সীমা ছিল ২০১৭ সালের ১০ জুন। এটিকে প্রথম দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর এবং তৃতীয় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৯ সালের ৩০ জুন করা হয়। এই বর্ধিত সময় শেষে কোম্পানিটি ১২৫ কোটি টাকার মধ্যে ৭৯ কোটি ৪৮ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৩ টাকা ব্যবহার করতে সক্ষম হয়। যা মোট অর্থের ৬৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বাকি ৩৬ দশমিক ৪১ শতাংশ অর্থ বা ৪৫ কোটি ১ হাজার ৫৯৭ টাকা অব্যবহৃত রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা একে ভট্টাচার্য ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘আমরা আইপিও’র বাকি টাকা ব্যবহারের জন্য চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাইবো। এ জন্য চলতি মাসের ২৯ তারিখে বিশেষ সাধারণসভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। সভায় শেয়ারহোল্ডাররা যতটুকু সময় অনুমোদন করবেন, আমরা সেই অনুযায়ী নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে আবেদন করবো।’
কোম্পানির বিএমআরই’র কাজ প্রায় শেষÑ এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘তবে নতুন আরএমজি প্রকল্প নিয়ে সময় লেগে যাচ্ছে। ম্যানেজমেন্টের ইচ্ছায় উপযুক্ত মূল্যে প্রকল্পটি নিতে চাই। তবে সময়মত সব কিছু হওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আবার নতুন করে জায়গা কিনে প্রকল্প করতে গেলে অনেক সময় লেগে যাবে।’

আইপিও তহবিল থেকে প্রাপ্ত সুদ কোন কাজে লাগানো হবে জানতে চাইলে এ কে ভট্টাচার্য বলেন, ‘ইজিএমে শেয়ারহোল্ডাররা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই অনুযায়ী সুদের টাকা ব্যবহার করা হবে।’
উল্লেখ্য, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস-এর বিএমআরই’র জন্য বরাদ্দ ছিল ৮২ কোটি ৪৬ লাখ ৭৯ হাজার ৫২০ টাকা। এর মধ্যে ব্যবহার হয়েছে ৭৫ কোটি ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫ টাকা। অবশিষ্ট রয়েছে ৭ কোটি ৪২ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬৫ টাকা। আর নতুন আরএমজি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৯ কোটি ৮৫ লাখ ৩ হাজার ৯৬২ টাকা। এর মধ্যে ব্যবহার হয়েছে ১ কোটি ৯২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৮২ টাকা। অবশিষ্ট রয়েছে ৩৭ কোটি ৯২ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ টাকা। কোম্পানির এই অব্যহৃত তহবিল থেকে সুদ হিসাবে আয় এসেছে ৩১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
এদিকে বিগত ২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট হাবীব গ্রুপের কোম্পানি রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলসের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসি’র ৫৫২তম সভায় ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সাথে ১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২৫ টাকা মূল্যে শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেয়া হয়। কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ৫ কোটি শেয়ার ছেড়ে ১২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে এবং এর ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
বিগত ২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ সুপারিশ করে। এসময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ১ টাকা ১২ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ৩০ টাকা ৭০ পয়সায়। আর ৯ মাসে (জুলাই-১৮ মার্চ ’১৯) কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৮৬ পয়সা। গতবছরের একই সময়ে আয় ছিল ৭৯ পয়সা। আর ৩ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩৩ পয়সা। গতবছরের একই সময়ে আয় ছিল ২৭ পয়সা। এসময়ে কোম্পানির এনএভি হয়েছে ৩০ টাকা ২ পয়সা। কোম্পানিটির স্বল্প মেয়াদে ঋণ রয়েছে ৯৪ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর দীর্ঘমেয়াদে ঋণ রয়েছে ৮৪ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। যদিও কোম্পানির রিজার্ভ রয়েছে ১৬১ কোটি ৮১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে কোম্পানিটির ১৫ টাকা প্রিমিয়ামে ২৫ টাকার শেয়ার এখন ১৫ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। ২০১৩ সালের পর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০১৩ কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ২ টাকা ৯২ পয়সা। এরপর ২০১৪ সালে ২ টাকা ৪৮ পয়সা, ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ১ টাকা ৮৮ পয়সা, ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ১ টাকা ২১ টাকা এবং ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ১ টাকা ১২ পয়সা।

‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। উদ্যোক্তা পরিচালকের কাছে কোম্পানির মোট শেয়ারের ৫৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ শেয়ার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪৮৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged