editorial

নির্ধারিত সময়ে আইপিও’র অর্থ ব্যবহারে গড়িমসি

নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক তদারকির উদ্যোগ নিতে হবে

সময়: সোমবার, অক্টোবর ৭, ২০১৯ ৬:৫৮:৩৯ অপরাহ্ণ


‘প্রাথমিক গণপ্রস্তাব’ (আইপিও)-এর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করতে পারছে না কোম্পানিগুলো। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি যেন এক ধরনের প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল রোববার ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-এ প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে আইপিও-এর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের ৯১ শতাংশই ব্যবহার করতে পারেনি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি ‘আমান কটন অ্যান্ড ফেব্রিক্স লিমিটেড’। ইতোপূর্বে গত কয়েক মাসে যথাসময়ে আইপিও’র অর্থ ব্যবহার করতে না-পারা আরও কয়েকটি কোম্পানির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এমন কী কোনো কোনো কোম্পানি তাদের পুঞ্জীভূত ব্যাংক ঋণ পরিশোধেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। যেটি কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষতা ও সক্ষমতার ঘাটতি না থাকলে আইপিও’র মাধ্যমে পুঁজিবাজার উত্তোলিত অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদিত খাতে ব্যয় করতে না-পারার কোনো কারণ নেই। এমতাবস্থায় কোনো কোম্পানির আইপিও প্রস্তাব অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির দক্ষতা ও সক্ষমতার বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। এছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইপিও’র অর্থ ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করে থাকে। এ সময়ে আইপিও’র মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রেখে বাড়তি মুনাফা অর্জনের সুযোগ নেয় কোম্পানি।
সাধারণভাবে আইপিও’র মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ ব্যবহারে কোনো কোম্পানি এক বছর সময় পেয়ে থাকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই অর্থ ব্যবহারে যদি কোনো বিচ্যুতি থাকে, তাহলে এজিএম-এ শেয়ারহোল্ডারদের থেকে অবশ্যই পূর্ব অনুমোদন নিতে হয়, যা কোম্পানির বোর্ড অনুমোদিত কর্মসূচি হবে। যদি শেয়ারহোল্ডাররা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুমোদন প্রদান করে, তবে তা কমিশনে দাখিল করতে হয়।
জানা যায়, ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৬১১তম কমিশন সভায় ‘আমান কটন অ্যান্ড ফেব্রিক্স লিমিটেড’-কে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ৮০ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ (বিএসইসি)। উত্তোলিত অর্থ গ্রহণ করার সময় থেকে ১২ মাসের মধ্যে ব্যবহার করার কথা ছিল। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোম্পানিটি উত্তোলিত অর্থের মাত্র ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ ব্যবহার করতে পেরেছে। গত ৫ আগস্ট কোম্পানিটির আইপিও অর্থ ব্যবহারের সময়সীমা শেষ হয়েছে। এই অর্থ ব্যবহারের জন্য নতুন করে কোনো সময় আবেদনও করেনি কোম্পানিটি।

Share
নিউজটি ২৭৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged