দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ও ইউনিট ফান্ডের প্রস্তাব মার্চেন্ট ব্যাংকারদের

পুঁজিবাজারের জন্য ‘মহাপরিকল্পনা’র উদ্যোগ নিচ্ছে আইসিবি

সময়: সোমবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ ৮:৫৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকার পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ‘ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ’ (আইসিবি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করছে। সরকার পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেজন্য পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই একটি মহাপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।
গতকাল রোববার আইসিবি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন’ (বিএমবিএ)-এর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হোসেন। সভায় বিএমবিএ সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, আইসিবির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোসাদ্দেক উল আলমসহ আইসিবি’র পদস্থ কর্মকর্তা ও বিএমবিএ’র প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আইসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ইতোমধ্যেই আইসিবি’র সাবেক সব এমডিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। ১৯৯৬ সাল পরবর্তী সব এমডিরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। আইসিবি শেয়ারবাজারকে কীভাবে সহযোগিতা করে সে বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিএমবিএ’র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক ডাকা হয়েছে। শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এই প্রথম মার্চেন্ট ব্যাংকারদের নিয়ে এ ধরনের সভা হলো। আরো বেশ কিছু স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গেও বৈঠক হবে। বৈঠক শেষে একটি মহাপরিকল্পনা নেয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়েও বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। বাজার উন্নয়নে সবাইকে পাশে চায় আইসিবি। আইসিবি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে নিয়ে একজোট হয়ে কাজ করতে চায়। সেক্ষেত্রে আইসিবি দলনেতা হয়ে কাজ করবে।
এ সময় বিএমবিএ’র সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী আইসিবি’র পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকাররা সবসময়ই সহযোগিতা করবে। সেক্ষেত্রে আইসিবি কিছু উদ্যোগ নিতে পারে। যেমন বাজারে দীর্ঘমেয়াদি একটি তহবিল খুবই প্রয়োজন। স্বল্পমেয়াদে কিছু তহবিল আইসিবি দেয়। তাতে খুব একটা কাজে লাগে না। তাই এ বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, আইসিবি আগের মতো কিছু ‘ইউনিট ফান্ড’ গঠন করতে পারে। যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমুক্তভাবে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারে। অনেক আশা করে ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ গঠন করা হলেও তেমন কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।
বিএমবিএ সভাপতি বলেন, অনেক কোম্পানি ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদন দিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নেয়। ফলে তারা শেয়ারবাজারে আসতে চায় না। এজন্য ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন দিয়ে কোম্পানির অবস্থান নির্ণয় করতে হবে। আবার কিছু অডিট ফার্ম আছে যারা ইচ্ছেমতো প্রতিবেদন করে দেয়। এ বিষয়গুলো নিয়ে এখন আলোচনা করতে হবে।
আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আইসিবি’-কে সবাই বাজারের অভিভাবক হিসেবে জানে। তাই আইসিবি’-কে সহায়তা করা সবার কর্তব্য। তবে আইসিবি’-কেও কিছু বিষয় মানতে হবে। শেয়ারের মৌলভিত্তির কথা চিন্তা না করে আইসিবি ঢালাওভাবে বিনিয়োগ করে থাকে। এতে বাজারের পরিবেশ নষ্ট হয়।

সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এয়ার কমোডোর (অব.) মো. আবু বকর বলেন, বাজারে অর্থ সঙ্কট চলছে। প্রতিদিনই শেয়ারের দর কমছে। এখানে নতুন কেউ বিনিয়োগ নিয়ে এলেও এক মাসের বেশি থাকে না। প্রতিদিনই যদি শেয়ারের দর কমে তাহলে কেন থাকবে। আবার কেউ বিক্রি করে দিলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে কৈয়ফিয়ত চাওয়া হয়। কেন বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে যে পরিমাণ আয় হয়, তাতে অফিসের ব্যয়ও উঠে আসে না। সেক্ষেত্রে হয়তো কর্মী ছাঁটাইয়ে যেতে হতে পারে। এ পরিস্থিতি বেশি দিন চলতে পারে না। আইসিবি কিছু ঋণ দেয়- সেগুলোর মেয়াদ খুবই কম। ফলে প্রতি তিনমাস পর পর শেয়ার বিক্রি করে হোক বা ঋণ করে হোক কিস্তি দিতে হয়। আইসিবি’র উচিত দীর্ঘমেয়াদি কিছু তহবিল দেয়া।

এফসি ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মজুমদার বলেন, শেয়ারবাজারে এ মুহূর্তে বিনিয়োগের ভালো সময়। ঝুঁকির দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে বিনিয়োগকারীদের বোঝাতে হবে। তাহলে ভালো বিনিয়োগকারী আসবে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪৩৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged