পুঁজিবাজারে দরপতন ঠেকাতে ডিএসই-বিএসইসি’র উদ্যোগ

সময়: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ ১০:২৮:১৫ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের পুঁজিবাজারে পতন যেন পিছু ছাড়ছে না। দীর্ঘমন্দা বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও বারবার হোঁচট খাচ্ছে। বাজারে পতন ঠেকাতে এবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) উদ্যোগ নিয়েছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল সোমবার ডিএসইতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৬২ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৫৩৩ পয়েন্টে নেমে আসে। এদিন ডিএসই’তে লেনদেন হয়েছে ২৭৫ কোটি টাকা। এর আগের দিনও বাজারে পতন অব্যাহত ছিল। ওইদিন ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে কমেছে ৭৫ পয়েন্ট। দুইদিনে ডিএসই’তে প্রধান সূচক ১৩৭ পয়েন্টের বেশি কমেছে। অন্যান্য সূচকও পতন ধারায় ছিল। গত ৩ বছরের বেশি সময় আগে বাজারে সূচক ও লেনদেনের এমন চিত্র ছিল। ২০১৬ সালের আগস্টের শেষে সূচক গতকালের মতো এতো নিচে অবস্থা করেছিল। এরপর সূচক ওঠানামা করলেও এতোটা নিচে নামেনি।
এদিকে, বাজারে বড় ধরনের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিছুদিন পরেই ব্যাংক-বিমা এবং নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের হিসাব বছর শেষ হবে। বাজারে সবচেয়ে বড় ব্যাংকিং খাত। এখাতের হিসাব বছর শেষ হওয়ার মুহূর্তে বাজার যেখানে গতিশীল হওয়ার আশা করেছিল বিনিয়োগকারীরা, ঠিক তখন উল্টো চিত্র তাদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। আর এমন সংকটময় মুহূর্তে ডিএসই একটি উদ্যোগ নিয়েছে। ডিএসই পরিচালনা পর্ষদ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বাজার স্থিতিশীল রাখতে অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারা। বৈঠকটির দিন তারিখ নির্ধারণ করতে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ডিএসই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে পর্ষদ।
ডিএসই পর্ষদ মনে করে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ ভূমিকা রয়েছে। আর এ কারণে অর্থমন্ত্রী এবং গভর্নরের সঙ্গে বৈঠককালে বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষার নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবে ডিএসই।
ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, ব্যাংক থেকে বাজারের জন্য তেমন সাপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বাজার স্থিতিশীল রাখতে নীতিনির্ধারকদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করেন।
এদিকে, মন্দা কাটাতে আগেও স্টেকহোল্ডাররা একাধিকবার বৈঠক করেছে। সেসব বৈঠকের পর বাজারে তারল্য সংকট কাটাতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্রোকারদের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল চেয়ে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের সঙ্গে গতকাল বৈঠক করেছে বিএসইসি চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন।
প্রাতিষ্ঠানিক ব্রোকারদের প্রস্তাবনা অনুসারে, আলোচিত তহবিলের আকার হতে পারে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং মেয়াদ হবে ৬ বছর। প্রস্তাবিত সুদের হার ৩ শতাংশ। প্রথম ২ বছর হবে গ্রেস পিরিয়ড। এ সময়ে তহবিল থেকে প্রাপ্ত অর্থ ফেরত দিতে হবে না। পরবর্তী চার বছরে তা সুদে-আসলে ফেরত দিতে হবে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, শুধু সেকেন্ডারি বাজারে বিনিয়োগের জন্য এই তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা দেয়া হবে। আর এ সুবিধা ব্রোকারহাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংকসহ সব মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রস্তাবিত তহবিল অনুমোদন পেয়ে যথাযথ কাজে লাগাতে পারলে বাজারের তারল্য সংকট অনেকটা কাটবে। এর মাধ্যমে বাজার গতিশীল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন ব্রোকাররা।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৩০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged