editorial

প্রস্তাবিত ব্যাংক কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে তো?

সময়: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০ ১২:৩৪:১০ পূর্বাহ্ণ


দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু হচ্ছে ব্যাংকিং সেক্টর। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত এবং টেকসই করতে হলে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যাংক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ব্যাংকিং সেক্টরের গুরুত্ব আরো বেশি। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের উদ্যোক্তারা সব সময়ই পুঁজির স্বল্পতায় ভোগে। যে কারণে তারা চাইলেই নিজস্ব অর্থায়নে শিল্প-কারখানা স্থাপন করতে পারেন না। অন্য কোনো বিকল্প উৎস থেকেও তারা পুঁজির যোগান নিশ্চিত করতে পারেন না। তাই শেষ পর্যন্ত তাদের ব্যাংকিং সেক্টরের উপরই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু আমাদের মতো দেশের ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের চাহিদা মেটানোর মতো অর্থের সংকুলান করতে পারে না। দেশের শেয়ারবাজারও সঠিকভাবে কাজ করে না। ফলে উদ্যোক্তারা বিশেষ অসুবিধায় পড়েন। আমাদের দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা অনেক দিন ধরেই নানা সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের ভারে ব্যাংকগুলোর নাকাল অবস্থা। আন্তর্জাতিক ভাবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ২ শতাংশ পর্যন্ত গ্রহণীয়। এর বেশি হলেই নানা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশের খেলাপি ঋণের হার ডাবল ডিজিট অতিক্রম করে গেছে। কোনোভাবেই খেলাপি ঋণের হার কমানো যাচ্ছে না। বর্তমান অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেছিলেন, আজ থেকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক টাকাও বাড়বে না। কিন্তু তার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয় নি। অবশ্য ইতোমধ্যেই ব্যাংকিং সেক্টরের বিদ্যমান আইনসমূহে বড় ধরনের সংস্কার সাধন করে খেলাপি ঋণের কিস্তি আদায় না করেই তাকে কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দেখানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু এই উদ্যোগ কতটা ভালো হবে তা একমাত্র ভবিতব্যই বলতে পারে।
এমনই এক প্রেক্ষিতে ব্যাংক কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছে, দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নিকট জিম্মি হয়ে আছে। এই অবস্থায় ব্যাংকিং কমিশন গঠনের যে উদ্যোন নেয়া হয়েছে তা কতটা কার্যকর হবে সে বিষয়ে তারা সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন এবং হস্তক্ষেপমুক্ত কমিশন গঠন করা না হলে তা তেমন কোনো ফল দিতে পারবে না। অবশ্য অনেকে আবার বলে থাকেন ব্যাংক কমিশন ঘটনের কোনো প্রয়োজন নেই। ব্রাংকিং সেকক্টরের সমস্যা আমাদের জানাই আছে। ব্যাংকিং সেক্টরের সমস্যা সমাধানে সরকারকে আরো আন্তরিক হতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দিতে হবে। আমাদের দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা বরাবরই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মুখে পড়ে। এটা দূর করতে হবে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলতে থাকলে কোনোভাবেই এই সেক্টরের সমস্যা দূর করা যাবে না। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে ব্যাংকিং সেক্টরের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক হতে হবে।

Share
নিউজটি ৪৩৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged