সংশোধিত ১৯৮৭ রুল্স-এর খসড়া চূড়ান্ত

ফোন ফ্যাক্স মেইলে দেয়া যাবে লেনদেন আদেশ

সময়: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯ ১২:২৬:০০ অপরাহ্ণ


সালাহ উদ্দিন মাহমুদ : বিনিয়োগকারীদের লেনদেন আদেশে আর আইনী বাধ্যবাধকতা রাখা হচ্ছে না। তারা লেনদেন আদেশ প্রদানের জন্য তথ্যের যে কোনো মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন। ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন রুল্স ১৯৮৭’-তে এ-সংক্রান্ত সংশোধনী এনে চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। ‘সিকিউরটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯’-এর (১৭) এর ৩৩ ধারা অনুযায়ী এ সংশোধন করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার বিস্তারিত আলোচনা করবে বিএসইসি। বিএসইসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বিধিমালা-২০১৯’ নামের এ নতুন খসড়া বিধিতে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের লেনদেন আদেশে আর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা রাখা হবে না। অনুমোদিত প্রতিনিধির কাছে একজন বিনিয়োগকারী তার লেনদেনের আদেশ যে কোনো মাধ্যমে দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে সরাসরি, ফ্যাক্স, ক্ষুদে বার্তা, ফোন, ই-মেইল এবং অ্যাপসের মাধ্যমে তিনি লেনদেনের আদেশ প্রদান করতে পারবেন। তবে ওই লেনদেন আদেশে কতটি শেয়ার ক্রয়/ বিক্রয় করা হবে, তার সংখ্যা, দর অন্যান্য আনুষঙ্গিক তথ্য থাকতে হবে। গ্রাহকের লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পরে প্রাপ্তি স্বীকার করে একটি এসএমএস বা ক্ষুদে বার্তা দেয়া হবে তার কাছে। অনুমোদিত প্রতিনিধি গ্রাহকের আদেশ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করবেন।
আইনে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকের হিসাবে নগদ টাকা গ্রহণের বিষয়টি আর আইনে রাখা হচ্ছে না। বিষয়টি এখন বিএসইসির আওতায় নেয়া হচ্ছে। বিএসইসি একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নগদ গ্রহণের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেবে। বর্তমানে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলো ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রাহকের টাকা গ্রহণ করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বিএসইসি সূত্র বলছে, দীর্ঘ ৩২ বছর পর এ আইন সংশোধন করা হচ্ছে। তাই টাকার পরিমাণ নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ থাকলে, পরবর্তীতে আবার আইন সংশোধন করা না পর্যন্ত আর পরিবর্তন করা যাবে না। বিষয়টি যদি আইনের বাইরে থাকে, তবে বিএসইসি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা গ্রহণের পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারবে।
কোম্পানির সমন্বিত গ্রাহক হিসেবে শেয়ার সংক্রান্ত তথ্য ৩ মাস পরপর স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। প্রতিবেদনে শেয়ার সংক্রান্ত যে তথ্য প্রদান করা হবে, তাতে কোনো ঘাটতি আছে কিনা তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস) অথবা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী প্রত্যেক স্টক ব্রোকার ও ডিলার আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। প্রত্যেক স্টক ব্রোকার ও ডিলারের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন স্টক এক্সচেঞ্জের নির্ধারিত প্যানেল নিরীক্ষকদের দিয়ে নিরীক্ষা করাবে। যা হিসাব বছর শেষ হওয়ার চার মাস বা ১২০ দিনের মধ্যে কমিশনে তা দাখিল করতে হবে।
স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলারের অফিস বা শাখা অফিসে একাধিক সমন্বিত গ্রাহক হিসাব থাকতে পারবে না বা একটি শাখার জন্য একটি সমন্বিত গ্রাহক হিসাব থাকবে। ব্যাংক অফিসের সাথে সিডিবিএলের শেয়ার হিসাব ঠিক আছে কি না তা রিপোর্ট করতে হবে। কোম্পানির ডিলার কোর্ডের ব্যাংক হিসাব আলাদা থাকতে হবে। এই অর্থ অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। দৈনন্দিন কাজের খরচ ব্যতীত অন্য সব পেমেন্ট এ হিসাব থেকে করতে হবে।
খসড়া প্রস্তাবে স্টক এক্সচেঞ্জের বার্ষিক ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। বছর শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে এ ফি পরিশোধে ব্যর্থ হলে স্টক এক্সচেঞ্জকে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা গুনতে হবে। এর মধ্যে স্টক ডিলার ও স্টক ব্রোকারের নিজস্ব অ্যাকাউন্টস পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে প্রান্তিক হিসাব শেষে ১৫ দিনের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। স্টক ব্রোকার ও ডিলারদের নিজস্ব হিসাব থেকে বৈধ কার্যক্রমে ফান্ড বিনিয়োগ করা যাবে না।
এদিকে পরিবর্তন আনা হয়েছে বিও হিসাব খোলার ক্ষেত্রে। অ্যাকাউন্টহোল্ডারের মতোই নমিনী বা মনোনিত ব্যক্তি এবং অথোরাইজারকে তার পুরো তথ্য প্রদান করতে হবে। কারণ গ্রাহক মারা গেলে এই হিসাবের সঠিক উত্তরাধীকারী পাওয়া মুশকিল হয়ে যায়। আবার কোন ব্যক্তি হিসাবটির অথোরাইজার ছিল তাও অনেক সময় উল্লেখ থাকে না। এতে অনেক হিসাব পড়ে রয়েছে যার সঠিক কোনো উত্তরাধীকারী নেই। একই সঙ্গে হিসাবধারীকে কিওয়াইসি (নো ইয়োর কাস্টমার) ফরমও পূরণ করতে হবে। অর্থের উৎস, ব্যবসা, ন্যাশনাল আইডি, পাসোর্টসহ আনুষঙ্গিক যাবতীয় তথ্য প্রদান করতে হবে।
এসব বিষয় নিয়ে বিএসইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, স্টক ব্রোকার ও ডিলাররা যাতে পরিপূর্ণ কমপ্লায়েন্স পরিপালন করতে পারে; তার জন্য আইনে অনেক বিষয় সহজ করা হয়েছে। পাশপাশি গ্রাহকে অর্থ অনেক বেশি নিরাপদ ও হ্যাসেল ফ্রি রাখতে বিও হিসাবেও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়েছে। সংশোধিত সমস্ত বিষয় স্টেকহোল্ডরদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
ইতোমধ্যে গত ২০ আগস্ট বিধিমালাটির খসড়া প্রস্তাবের ওপর বিএসইসি-তে একটি পরামর্শমূলক কর্মশালা হয়েছে। এই কর্মশালার আলোকে স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির প্রতিনিধিসহ পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয় কমিশন। ওই পরামর্শের ভিত্তিতে বিধিমালাটির খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছ।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৬৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged