বন্ধ ইউনাইটেড এয়ারের শেয়ার হল্টেড

সময়: সোমবার, আগস্ট ২৬, ২০১৯ ৪:১৭:৩২ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘জেড’ ক্যাটাগরির বন্ধ কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ-এর শেয়ার বিক্রেতা শূন্য থাকায় কিনতে পারেনি বিনিয়োগকারীরা। গতকাল রোববার শেয়ার দরে তলানীতে থাকা এ কোম্পানিটির মূল্য বেড়েছে ১০ শতাংশ। এদিন কোম্পানিটির ৩৬ লাখ ৪৪ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়।

রোববার কোম্পানিটির লেনদেন শুরু হয় ২ টাকা ২০ পয়সায়। দিন শেষে ওই একই মূল্যে লেনদেন শেষ হয়। এর আগের কার্যদিবস গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ লেনদেন ছিল ২ টাকা। সে হিসেবে গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার দর ২০ পয়সা বেড়েছে।

হঠাৎ ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের শেয়ারের দর এমন বাড়লেও কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম কয়েক বছর ধরেই বন্ধ রয়েছে। এমনকি কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার থেকে কয়েক’শ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ডিএসই’র তথ্য অনুযায়ী, ১০০ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ২০১০ সালে পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এরপর ২০১১ সালে রাইট শেয়ার ও ২০১০ সালে ৫ শতাংশ, ২০১১ সালে ১০ শতাংশ, ২০১২ সালে ১৫ শতাংশ, ২০১৩ সালে ১২ শতাংশ, ২০১৪ সালে ১০ শতাংশ ও ২০১৫ সালে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়ে কোম্পানিটি মূলধন বাড়ায়। বর্তমানে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন দাঁড়িয়েছে ৮২৮ কোটি টাকায়। ২০১৫ সালের পর কোম্পানিটি আর কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কাছে ২০১৫ সালের পর কোম্পানির কোনো তথ্যও নেই। ডিএসইর ওয়েবসাইটেও ২০১৫ সালের পর তথ্য হালনাগাদ করা হয়নি। সর্বশেষ সাধারণ সভা হয় ২০১৪-১৫ অর্থবছরে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, কোম্পানিটির পরিচালকরা ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে তাদের হাতে থাকা কোম্পানির ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ, ২০১২ সালে শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ, ২০১৫ সালে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ দশমিক ০২ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে কোম্পানি থেকে প্রায় ৮২৪ কোটি ২২ লাখ টাকা তুলে নেন।
২০১০ সালের তালিকাভুক্তির পরের বছর ২০১১ সালে কোম্পানির পরিচালকদের হাতে থাকা ৫০ শতাংশ শেয়ারের ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেন। ওই বছরে শেয়ারের গড় দাম ছিল ৪৬ দশমিক ৪০ পয়সা। সেই হিসাবে পরিচালকরা প্রায় ৭৬৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা পুঁজিবাজার থেকে তুলে নেন।
পরের বছর ২০১২ সালে শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার ২৩ দশমিক ৭০ টাকা গড় দামে বিক্রি করে তারা উঠিয়ে নেন প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এরপর ২০১৩ সালে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ শেয়ার ২০ দশমিক ৩১ টাকা গড় দামে ৪৫ কোটি টাকা এবং ২০১৫ সালে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে ৯ দশমিক ৯২ টাকা গড় দামে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা তুলে নেন।
আর ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ শেয়ার গড় ৬ টাকা দামে বিক্রি করেন। সব মিলে তালিকাভুক্তির পর মাত্র পাঁচ বছরে ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০টি শেয়ার বিক্রি করেন উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা।
কোম্পানিটির মোট শেয়ারের মাত্র ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৭০ দশমিক ২৬ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং বিদেশিদের কাছে ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ শেয়ার আছে।
এদিকে কার্যদিবস শেষে তালিকাভুক্ত কোম্পানি কেডিএস ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারও বিক্রেতা শূন্য ছিল। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেড়েছে। সর্বশেষ ৬৩ টাকা ৯০ পয়সা দরে লেনদেন হয়েছে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৮৪১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged