bangladesh bank

বিশেষ তহবিলের জন্য যোগযোগ শুরু করেছে ব্যাংকগুলো

সময়: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০ ১২:৫১:৪১ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত বিশেষ তহবিলের জন্য তফসিলি ব্যাংকগুলো যোগাযোগ শুরু করেছে। বিশেষ কোনো শর্ত ছাড়াই প্রতিটি ব্যাংককে দু’ শ’ কোটি টাকা দেয়ার ঘোষণা দেয়ায় তফসিলি ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কয়েকটি তফসিলি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, তারা বিশেষ তহবিলের টাকা নিতে চায়। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে এত দিন ব্যাংকের কিছু ভয় ছিল। আমানতের টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে চায়নি। এমনকি তাদের পুঁজিবাজার সংক্রান্ত নিজস্ব সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক ছিল না। ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা বিশেষ তহবিলের সার্কুলারে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিনিয়োগে কোনো শর্তারোপ করা হয়নি। ফলে ব্যাংকগুলো এখন তহবিলের জন্য যোগাযোগ শুরু করেছে।
গত ১০ ফেব্রুয়ারির সার্কুলার অনুযায়ী, প্রত্যেকটি তফসিলি ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকা দেয়া হচ্ছে। সে হিসেবে মোট ৫৯টি তফসিলি ব্যাংককে ১১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা দেয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ শতাংশ সুদে এই ঋণ তহবিল দিবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ৭ শতাংশ সুদ হারে ঋণ হিসেবে দিতে পারবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগযোগ করছে। আগামী সপ্তাহে জানা যাবে কোন্ কোন্ ব্যাংক তহবিল নিচ্ছে।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএম) সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, আমরাও জেনেছি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তহবিলের জন্য অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এত সহজ শর্তে তহবিল পাওয়ায় ব্যাংকগুলোর আগ্রহ বেড়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকসমূহ ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত যে কোন কার্যদিবসে রেপোর মাধ্যমে বর্ণিত ২০০ কোটি টাকার সীমার মধ্যে যে কোন অংকের তহবিল বাংলাদেশ ব্যাংক হতে সংগ্রহ করতে পারবে। রেপোর সুদের হার ৫ শতাংশ নির্ধারিত থাকবে এবং কোন প্রকার অকশনের প্রয়োজন হবে না।
তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পুঁজিবাজার সংক্রান্ত সাবসিডিয়ারীর ক্ষেত্রে এরূপভাবে গঠিত পোর্টফোলিও’র বাজারভিত্তিক পুনঃমূল্যায়ন ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত স্থগিত থাকবে এবং ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ আর্থিক বিবরণীতে প্রকাশ করতে হবে। পুনঃমূল্যায়নের ক্ষেত্রে অন্যান্য মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ (ডিলার) সংশ্লিষ্ট মূল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করবে।
বিনিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, নিজ ব্যাংকের কোন শেয়ার ক্রয় করা যাবে না। অন্য কোন তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উক্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের ২ শতাংশের বেশি ক্রয় করা যাবে না। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভিন্ন অন্য কোন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উক্ত কোম্পানির মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের ১০ শতাংশের বেশি ক্রয় করা যাবে না। ব্যাংকের সাবসিডিয়ারী কোম্পানি নয়, এরূপ মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউজ (ডিলার) কর্তৃক কোন ব্যাংক কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উক্ত কোম্পানির মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের ২ শতাংশের বেশি ক্রয় করা যাবে না।
মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মোট ইউনিটের ১০ শতাংশ এবং বেমেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মোট ইউনিটের ১৫ শতাংশের বেশি ক্রয় করা যাবে না।
মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউজ (ডিলার) কর্তৃক একাধিক ব্যাংক হতে এই বিশেষ তহবিলের আওতায় ঋণ গ্রহণ করলে প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথক ব্যাংক এবং বিও হিসাব খুলতে হবে। ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদানুযায়ী যে কোন সময় বিও হিসাব সংশ্লিষ্ট সমুদয় তথ্য ও দলিলাদি বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে বাধ্য থাকবে’- এ মর্মে ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান ঋণ গ্রহীতার নিকট থেকে অঙ্গীকারনামা গ্রহণ করবে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৫০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged