editorial

বিশেষ তহবিলের বাইরে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান

সময়: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ ১২:৫৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ


বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রতি দেশের সিডিউল ব্যাংকগুলোর জন্য ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের যে উদ্যোগ নিয়েছে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তার বাইরে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনে’ এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদটি বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করলেও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের মাঝে কিছুটা হলেও হতাশার জন্ম দিয়েছে। কারণ দেশের শেয়ারবাজারে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে লিজিং কোম্পানিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু তাদেরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের সঙ্গে যুক্ত করা হয় নি। এই অবস্থায় নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ব্যাংকিং সেক্টর থেকে ঋণ গ্রহণ করতে চায় তাহলে তাদেরকে ৭শতাংশ সুদ গুনতে হবে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সিডিউল ব্যাংকগুলো যেহেতু ৫ শতাংশ অর্থাৎ ব্যাংক রেটে তহবিলের যোগান পাবে তাই তারা নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণদানের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জ আরোপ করবে। অথচ তাদেরও যদি বিশেষ তহবিলের সুযোগ দেয়া হতো তাহলে তাদের উপর আরোপিত সুদের হার ৫শতাংশ হতো। কিন্তু নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সুযোগ না দেবার কারণে তারা এক ধরনের বৈষম্যের শিকার হবে। ফলে তাদের পক্ষে বাজারে সঠিকভাবে অবদান রাখা দুষ্কর হয়ে পড়বে। নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টগণ মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সামগ্রিক বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। তাহলে বাজারে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা চূড়ান্ত বিচারে শেয়ারবাজারের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রতিটি সিডিউল ব্যাংকগুলোর জন্য ২০০ কোটি টাকার বিশেষ ফান্ড গঠনের উদ্যোগ গ্রহণের পর বাজারে যে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ইতোমধ্যেই বাজারে এক ধরনের অস্থিরিতা দেখা যাচ্ছে। বাজার যেভাবে বিকশিত হবে বলে আশা করা গিয়েছিল ঠিক সেটা হয় নি। তার অর্থ হচ্ছে এটাই যে, বাজারে শুধু তারল্য প্রবাহ বাড়িয়েই বাজারকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। এ জন্য আরো অনেক কিছু করণীয় আছে। বাজারের অন্তর্নিহিত সমস্যার স্বরূপ অনুসন্ধান করে তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে বাজার নিয়ে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে। তারা অনেকেই মনে করছেন, বাজার সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। ফলে বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিনিয়োগকারীরা স্বাভাবিক অবস্থার মতো উৎসাহ নিয়ে বিনিয়োগ করতে পারছেন না। বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ার মাঝে মাঝেই ব্যাপক দরপতনের মুখোমুখি হচ্ছে।
দেশের শেয়ারবাজারে আসলে কি ঘটছে তার মূল কারণ অনুসন্ধান করে তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ শেয়ারবাজার অস্থিতিশীল রেখে কখনোই সত্যিকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন আশা করা যায় না।

Share
নিউজটি ৫৭১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged