bangladesh bank

মুদ্রানীতিতে আসছে সংশোধনী

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সময়: সোমবার, ডিসেম্বর ২, ২০১৯ ৯:১৭:২৭ পূর্বাহ্ণ


সাইফুল শুভ : চলতি অর্থবছরের (২০১৯-’২০) জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে কিছুটা সংশোধনী এনে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ আরো বাড়াতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এজন্য আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়া হবে না বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি অর্থবছরের প্রথম দিকে একবারই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। তবে বছরের যে কোনো সময় প্রয়োজন মতো তা সংশোধন করা যাবে। সংশোধন শেষে সার্কুলার আকারে তা প্রকাশ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ায় ব্যাংকে অলস টাকা বাড়ছে। তাই বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে।
ব্যাংকিং খাতে নগদ টাকার চাহিদা কমেছে। পাশাপাশি ঋণের চাহিদাও কমে আসছে। এতে ব্যাংকে অলস টাকার পরিমাণ বাড়ছে। নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি অর্থ নিজেদের কাছে রাখতে পারে না ব্যাংকগুলো। সেই অর্থ জমা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পরিবর্তে জমা হচ্ছে বেশি। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে।
চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ১৩.২ নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। সেটি আগের বছর অর্থাৎ জুন ২০১৮ পর্যন্ত ছিল ১৬.৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা কমানোর ফলে বিনিয়োগ কিছুটা কমেছে। তবে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা কতটা বাড়ানো হবে বাংলাদেশ ব্যাংক তা এখনো চূড়ান্ত করেনি।

মূলধন অনুপাত অনুযায়ী ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ নিজেদের ভল্টে রাখতে পারে দৈনিক ভিত্তিতে। বাকি অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা বা অনুমোদিত সরকারি ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। ব্যাংক প্রয়োজনে আবার সেই অর্থ ফিরিয়ে নিতে পারে।
ব্যাংকের নগদ টাকার চাহিদা কমেছে। ফলে ঋণ বিতরণও কমেছে। ব্যবসায়ীরা আগের মতো ঋণ নিচ্ছেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরের হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। জুলাই-২০১৯ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ। কিন্তু ২০১৮ সালে আলোচিত সময়ে এই খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল এক দশমিক ২৪ শতাংশ।
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের বছরের তুলনায় কমিয়ে ধরেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। জুন ২০১৮ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬.৯।
মূল্যস্ফীতি ৫.৫০ শতাংশে সীমিত রেখে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে ঘোষিত হয়েছিল মুদ্রানীতি। চলতি অর্থবছরের (জুলাই-জুন) পর্যন্ত সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। আর অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মোতাবেক, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ১৬ শতাংশ। কিন্তু গত জুন শেষে এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ। এটি চলতি মুদ্রানীতির ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরেও একই চিত্র দেখা দিয়েছে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কিছুটা বাড়াতে চায়।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. ফরাসউদ্দিন দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত খুবই ইতিবাচক। কারণ বর্তমানে দেশের অর্থনীতির ৮০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করছে বেসরকারি খাত। সরকারি বিনিয়োগেরও অনেক নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। কাজেই সরকারি খাতকেও অবহেলা করা যাবে না। সরকারি-বেসরকারি খাত মিলিয়েই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩১৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged