বেসরকারি খাতে পুনঃবীমা কোম্পানি গঠনের নির্দেশ

সময়: সোমবার, অক্টোবর ৭, ২০১৯ ৯:৩০:২৫ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : বেসরকারি খাতে পুনঃবীমা কোম্পানি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। পাশাপাশি সাধারণ বীমা করপোরেশনকে পূর্নাঙ্গ পুনঃবীমা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা যায় কিনা সে বিষয়েও নির্দেশনা এসেছে অর্থমন্ত্রী থেকে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আইডিআরএ’র এক বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
আইডিআরএ বলছে, এসবিসি থেকে পুনঃবীমা দাবি আদায়ে প্রায়ই ভোগান্তির স্বিকার হতে হয় বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোকে। এছাড়া প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা পুনঃবীমা প্রিমিয়াম বাবদ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। আবার বেশ কিছু সরকারি-বেসরকরি সম্পদ ও প্রকল্পের বীমা আইন লঙ্ঘন করে বিদেশে করা হচ্ছে । এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, আবার বীমা শিল্পের প্রবৃদ্ধিও কমে যাচ্ছে। মূলত এসব কারণেই বেসরকারি খাতে বেসরকারি খাতে পুনঃবীমার জন্য কোম্পানিকে লাইসেন্স প্রদান করা যায় কিনা তা নিয়ে আলোচনা করছে অর্থমন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে আইডিআরএ’র নির্বাহী পরিচালক খলিল আহমেদ বলেন, অর্থমন্ত্রী নিজেও বীমা খাত সংশ্লিষ্টদের একজন। তাই বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে তিনি বেসরকারি খাতে পুনঃবীমা কোম্পানি গঠনের নির্দেশনা দেয়েছেন। তবে এটি গঠন করতে হলে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এজন্য নীতিমালা তৈরি করা জরুরি।
বেসরকারি খাতে পুনঃবীমা করছে এমন কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির উপদেষ্টা ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের ক্যাপাসিটি অনেক কম, তাই আমরা সিমিত আকারে পুনঃবীমা করে থাকি। বেসরকারি খাতে একটি পুনঃবীমা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হলে ন্যূনতম ১ থেকে ২ হাজার কোটি টাকা মূলধন প্রয়োজন। বেসরকারি খাতের কোন উদ্যোক্তা যদি এর যোগান দিতে পারে তাহলে এগিয়ে আসা উচিত।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি নিজেও এক সময় সাধারণ বীমা করপোরেশনে কর্মরত ছিলাম। তাই বলছি যদি বসরকারি খাতে পুনঃবীমা কোম্পানি গঠনের লাইসেন্স দেয়া হয় তাহলে তা অবশ্যই ইতিবাচক। কারণ এর মাধ্যমে পৃথক একটি ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠবে।
এদিকে, প্রথমবারের মতো পুনবীমা সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে আইডিআরএ। খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর পুনঃবীমা প্রিমিয়াম বাবদ কত টাকা বিদেশে যাচ্ছে এর হিসাব দিতে হবে রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি) ও বেসরকারি সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোকে। বিদেশে অর্থ প্রেরণের বিষয়টি অনুমোদনের পাশাপাশি প্রতি তিন মাস অন্তর আইডিআরএ বরাবর এ হিসাব দিতে হবে। বিশ্বের ১শ’টি দেশের পুনঃবীমা সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন পর্যালোচনা করে খসড়া নীতিমালাটি তৈরি করা হয়েছে বলে ‘আইডিআরএ’ সূত্রে জানা যায়।
জানা যায়, বর্তমানে কোনো নীতিমালা ছাড়াই এসবিসি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে পুনঃবীমা প্রিমিয়াম বাবদ প্রতিবছর দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। এ সংক্রান্ত কোনো রেকর্ডও সংরক্ষণ করে না আইডিআরএ বা বাংলাদেশ ব্যাংক।
এসবিসি’র তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি গত পাঁচ বছরে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি বিদেশে পাঠিয়েছে পুনঃবীমার প্রিমিয়াম বাবদ। এর মধ্যে ২০১৩ সালে ৩১৬ কোটি ২১ লাখ টাকা, ২০১৪ সালে ২৭৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা, ২০১৫ সালে ৩১৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, ২০১৬ সালে ২৯০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও ২০১৭ সালে পাঠানো হয়েছে ৩৪৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের হিসাব এখন পর্যন্ত তৈরি না হলেও আলোচ্য বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি পুনঃবীমা প্রিমিয়াম বাবদ পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে এসবিসি।
খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, এখন থেকে এসবিসি ও বেসরকারি বীমা কোম্পানি উভয়কেই পুনঃবীমা ব্যবসার ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন আইডিআরএতে দাখিল করতে হবে। এছাড়া পুনঃবীমা প্রিমিয়াম বাবদ যে পরিমাণ অর্থই বিদেশে পাঠানো হোক না কেন, নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে তার অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত রেকর্ড সংরক্ষণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়াও পুনঃবীমা সংক্রান্ত কাজে কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের তথ্য ত্রিমাসিক ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বরাবর দাখিল করতে হবে।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, বিদেশি পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে এদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া তাদের বাংলাদেশ শাখার ব্যবসায়িক তথ্য ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আইডিআর এতে জমা দিতে হবে।
খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিধি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স নিয়েই কোনো পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠান এ দেশে ব্যবসা করতে পারবে। এক্ষেত্রে তাকে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের (আরজেএসসি) প্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠানের শেষ পাঁচ বছরের ব্যবসায়িক তথ্য ও আর্থিক সক্ষমতার সনদ আইডিআরএ জমা দিতে হবে। শুধু তাই নয়, বিদেশি পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), হিসাব রক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করবে আইডিআরএ। এছাড়াও প্রস্তাবিত পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্বের আর কোন কোন দেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে তার একটি তালিকা আইডিআরএ দিতে হবে ।
খসড়ায় পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট রেটিং ও আর্থিক সক্ষমতা বিচার করেই দেশীয় কোম্পানিগুলোকে চুক্তিবদ্ধ হবার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া দাবি পরিশোধে যে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি হলে পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানি উভয়কেই তা লিখিতভাবে জানাতে হবে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বরাবর।
খসড়া নীতিমালায় বিদেশি পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বেশ কিছু সুবিধা রাখা হয়েছে। যেমন- এদেশে ব্যবসা করলেও তাদের কোনো ধরনের জামানত রাখতে হবে না। এছাড়া খসড়া নীতিমালায় অর্জিত প্রিমিয়াম আয় থেকে এ দেশে বিনিয়োগের কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
জানা যায়, সাধারণ বীমা করপোরেশন এদেশের একমাত্র সরকারি পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলো তাদের মোট ঝুঁকির ৫০ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানে পুনঃবীমা করে। বাকি ৫০ শতাংশ ইচ্ছে করলে বিদেশে বা এসবিসিতেই পুনঃবীমা করতে পারে কোম্পানিগুলো।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৭৩৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged