নভেম্বরে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ‘টাকা বন্ড’ চালু

বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে অর্থমন্ত্রীর আহ্বান

সময়: রবিবার, অক্টোবর ২৭, ২০১৯ ৯:৪১:০১ পূর্বাহ্ণ


বিশেষ প্রতিনিধি : বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য যুক্তরাজ্যে হাইকমিশনারের নেতৃত্বে ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করা হবে বলে জানান তিনি।
লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত ‘ইনসেনটিভাইজিং রেমিট্যান্সেস ফ্রম দ্য ইউকে : মাইলস্টোন ইরেশিয়েটিভস অব প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় গত বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে ২০টিরও বেশি রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সাথে মত বিনিময় করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, রেমিট্যান্স প্রেরণকারীরা সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন। বৈধ পথে প্রবাসীরা যত খুশি রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন। এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রতি ট্রানজেকশনে ১ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি না হলে যুক্তরাজ্যে বা বাংলাদেশে কেউ কোন প্রশ্ন তুলবে না। বরং প্রেরিত রেমিট্যান্সের ওপর ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা রেমিট্যান্স প্রেরণকারীকে দেয়া হবে। এ জন্য ইতোমধ্যে সরকার ৩০৬০ কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরো বাড়ানোই ২ শতাংশ প্রণোদনার মূল লক্ষ্য।
প্রবাসীদের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ২ শতাংশ প্রণোদনা প্রদানকে একটি ‘নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, বিশ্বের আর কোনো দেশের প্রবাসীরা এ সুবিধা পাচ্ছেন না। রেমিট্যান্সের ওপর এ প্রণোদনা চলতি বছরের গত জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে। কাজেই যারা ওই সময় থেকে বাংলাদেশে বৈধ পথে টাকা পাঠিয়েছেন, তারা রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য প্রণোদনা গ্রহণের ব্যবস্থা নিতে পারেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন বন্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের বিনিয়োগে সুযোগ রযেছে। আগামী মাসে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ-এ বাংলা ‘টাকা বন্ড’ চালু করা হচ্ছে। যা প্রবাসীদের বিনিয়োগের একটি বড় ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এছাড়া দেশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় ১৩০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪০টি অঞ্চলের কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি লাভবান হতে পারেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ বা এফডিআই ও বিদেশি সহায়তা বাড়ছে। গত বছরের হিসাবে আমাদের এফডিআই ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ বিনিয়োগ আকর্ষণে এগিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বে ফিজিক্যাল ও ননফিজিক্যাল অবকাঠামোর দুর্বলতার কারণে আমারা পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু এখন আমাদের অবকাঠামো মোটামুটিভাবে তৈরি হয়েছে, তাই এখন আর আমরা পিছিয়ে থাকবো না। এছাড়া বিভিন্ন মেগা প্রকল্পসহ অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে যেভাবে আমাদের অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে এতে আমাদের সম্ভাবনা আরো বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম বলেন, যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ প্রতি বছরই বাড়ছে। প্রণোদনা দেয়ার ফলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আগামী বছর রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। অনুষ্ঠানে আগামী ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে সর্বাধিক রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩১৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged