ব্যর্থ অর্ধশত কোম্পানি : মন্দা বাজারে ঝুলে গেছে ‘ডি’ ক্যাটাগরি গঠনের উদ্যোগ

সময়: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০১৯ ৬:৩৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ


নাজমুল ইসলাম ফারুক : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত বিধি-বিধান পরিপালন করছে না, সেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলাদা ক্যাটাগরি করার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএসই আলাদা ক্যাটাগরি করার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু মন্দা বাজারের কারণে বিষয়টি এখন ঝুলে গেছে।

তথ্যমতে, তালিকাভুক্ত প্রত্যেক কোম্পানির উদ্যোক্তা এবং পরিচালকদের এককভাবে ২ শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু তালিকাভুক্ত প্রায় অর্ধশত কোম্পানি শেয়ার ধারণের এই নিয়ম পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে। এসব কোম্পানি বাজারে অস্থিরতার জন্য অনেকটা দায়ী বলে স্টেকহোল্ডারা মনে করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার পর পরিচালকদের শেয়ার ধারণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে আলাদা ক্যাটাগরি নির্ধারণ করতে গত এপ্রিল মাসে স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দেয় বিএসইসি। পরে গত ২১ মে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে কমিশন। সে অনুযায়ী ডিএসই’র পর্ষদ সভায় একাধিকবার আলোচনা করে সেগুলোকে ‘ডি’ নামে নতুন ক্যাটাগরি করার উদ্যোগ নেয়া হয়। পরবর্তীতে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) মেয়াদ শেষ হওয়া এবং মন্দা বাজারের কারণে এটি ঝিমিয়ে পড়েছে।

এ সম্পর্কে ডিএসই’র একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ডিএসইর এমডি’র মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ডিএসই পর্ষদ এমডি পুনঃনিয়োগের অনুমোদন দেয়। কিন্তু কমিশন অনুমোদন না দেয়ায় ডিএসই এখন ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে চলছে। এতে ডিএসই’র কাজে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিপরীত দিকে বাজার মন্দা থাকায় ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বিষয়ে যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলÑ সেটি পিছিয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১০ সালের পুঁজিবাজারে ধসের আগে উদ্যোক্তা পরিচালকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো শেয়ার বেচাকেনা করেছেন। বাজারে শেয়ার দর অতিমূল্যায়িত হওয়ার কারণে পরিচালকরা তাদের হাতে থাকা শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে বেরিয়ে যান। এতে বাজারে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ধসের পর পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে নানা উদ্যোগের পাশাপাশি কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে কমিশন। ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অর্ডিন্যান্স ১৯৯৬ এর ২ সিসি ধারার আওতায় তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্তারোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপন অনুসারে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের (স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যতিত) সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। অন্যদিকে কমপক্ষে ২ শতাংশ শেয়ার না থাকলে কোনো উদ্যোক্তা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের থাকতে পারবেন না। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে আদালত বিএসইসি’র পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে কিছু কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা বাজার থেকে শেয়ার কিনে তাদের কোটা পূরণ করলেও অনেকে ন্যূনতম শেয়ার ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা ন্যূনতম শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলোর একটি তালিকা স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে চেয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে আলাদা একটি ক্যাটাগরি করার জন্যও বলেছে বিএসইসি। কমিশন ৩০ কার্যদিবসের সময় দিলেও মন্দা বাজারের কারণে তা শিথিল করা হয়েছে। বাজার স্বাভাবিক গতি ফিরে এলে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় কাজ করবে কমিশন।

ডিএসই’র ওয়েবসাইটে প্রদত্ত শেয়ারধারণসংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোম্পানিগুলো হলো- অগ্নি সিস্টেমস, আলহাজ টেক্সটাইল, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার,অ্যাপোলো ইস্পাত, বারাকা পাওয়ার,বিডি কম, বিডি থাই, বেক্সিমকো,বেক্সিমকো ফার্মা, সেন্ট্রাল ফার্মা, কনফিডেন্স সিমেন্ট, ডেলটা স্পিনিং, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল, দুলামিয়া কটন, এমারেল্ড অয়েল, ফ্যামিলিটেক্স, ফাইন ফুডস, ফু–ওয়াং সিরামিক, ফু–ওয়াং ফুডস, জেনারেশন নেক্সট, ইমাম বাটন,ইনটেক লিমিটেড, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, কে অ্যান্ড কিউ,ম্যাকসন্স, মেট্রো স্পিনিং, মিথুন নিটিং, নর্দান জুট, অলিম্পিক অ্যাকসেসরিজ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ফার্মা এইড, সালভো কেমিক্যাল, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, তাল্লু স্পিনিং, ইউনাইটেড এয়ার, একটিভ ফাইন, ফাস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, পিপলস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, উত্তরা ব্যাংক, পিপলস লিজিং, বে লিজিং, আফতাব অটোমোবাইলস, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৩০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged