editorial

ব্যাংকারদের সৎভাবে কাজ করার জন্য অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ

সময়: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২০ ৯:২৯:০২ অপরাহ্ণ


অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল রাজধানীতে আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের ম্যানেজারদের সম্মেলনে প্রদান অতিথির ভাষণে বলেছেন, সারা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা বিরাজ করছে। অর্থনৈতিক মন্দার কারণ বেশির ভাগ দেশের অভ্যন্তরীণ ভোগ চাহিদা করেছে। ফলে তারা আমদানির পরিমাণ ব্যাপকভাবে হ্রাস করেছে। আগামীতে আমাদের সামনে বেশ কিছু কঠিন চ্যালেহ্জ আসছে। আমাদের সম্মিলিতভাবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। যেসব অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আসবে তাকে শক্তিতে পরিণত করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। অর্থমন্ত্রী ব্যাংকিং সেক্টরের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্টদের আরো তৎপর হবার জন্য পরামর্শ দেন। ব্যাংকিং সেক্টরের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন,একটি ব্যাংকের সব কর্মকর্তাই খারাপ নন। দু’একজন খারাপ। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আগেই তাদের সতর্ক হবার জন্য তিনি পরামর্শ দেন। তিনি আরো বলেন,যেসব কর্মকর্তা দুর্নীতি করেন তাদের সেই দুর্নীতির দায়ভার পুরো ব্যাংককেই বহন করতে হয়। আর আমাকে এ জন্য জাতীয় সংসদে গালি শুনতে হয়। তিনি আরো বলেন,আপনাদের এই ব্যাংকটির সৃষ্টি হয়েছিল শিল্প খাতে অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য। শিল্প স্থাপনের জন্য অর্থায়নের মাধ্যমে দেশ ব্যাপক ভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এটাই ছিল এই ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ সফল হয়েছে তা বলা যাবে না। তিনি আরো বলেন,ব্যাপক ভিত্তিক শিল্পায়নের সুযোগ সৃষ্টি করা না গেলে আমরা আগামীতে কাঙ্খিত মাত্রায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন করতে পারবো না। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ২০টি অর্থনীতির একটি হবে। বর্তমানে বিশব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৯তম। ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় ২৪তম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে। অর্থমন্ত্রী উল্লেখিত ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের সবোচ্চ সততা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন। উল্লেখ্য,অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এক সময় এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েই তার প্রথম শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। সেই সময় তিনি ব্যাংকের এক শ্রেণির কর্মকর্তা কর্তৃক হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। কাজেই তিনি যে সব কথা বলেছেন তা তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকেই বলেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্যাংক কর্মকর্তারা যদি নিজে থেকে ভালো না হন তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। আগামীতে ব্যাংকিং সেক্টরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হতে পারে তারই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে। বর্তমানে ব্যাংকিং সেক্টরের অভ্যন্তরীণ সুশাসনের অভাব এই সেক্টরের স্বাভাবিক চলার গতিকে বিঘ্নিত করছে। আমরা যদি ব্যাংকিং সেক্টরের সমস্যা সমাধান করতে চাই তাহলে অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই।

 

Share
নিউজটি ৩৬৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged