editorial

ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ নির্ধারণ

সময়: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০ ৮:৫৭:৩৫ অপরাহ্ণ


ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের সর্বোচ্চ হার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখ থেকে ব্যাংকগুলো তাদের প্রদত্ত ঋণের উপর সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ হারে সুদারোপ করতে পারবে। ক্রেডিট কার্ড ব্যততি অন্য সব ঋণের ক্ষেত্রে এই সুদ হার প্রযোজ্য হবে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ে তাহলে ব্যাংক সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আরো ২ শতাংশ সুদারোপ করতে পারবে। এই দু’প্রকার সুদ ব্যতিত ব্যাংক অন্য কোনো সুদারোপ করতে পারবে না। কোনো দন্ড সুদ আরোপ করা যাবে না। প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানির ক্ষেত্রে সুদের হার আগের মতোই ৭ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে। ইতোপূর্বে ব্যক্তি খাতের ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এসএমই এবং রিটেইল খাতকে ৯ শতাংশ সুদ হারের বাইরে রাখার দাবি জানানো হলেও তা উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে এপ্রিল মাস থেকে সব ধরনের ঋণের উপর আরোপিত সুদ হার হবে ৯ শতাংশ। গত প্রায় দু’ বছর ধরে ব্যাংক ঋণের সুদের সর্বোচ্চ হার ৯শতাংশ এবং আমানতের উপর প্রদেয় সুদ হার ৬শতাংশ নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে নানাভাবে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছিল। ব্যক্তি খাতের ব্যাংক মালিকগণ এই সুদ হার বাস্তবায়নের অজুহাতে সরকারের নিকট থেকে অনেক ধরনের সুবিধা আদায় করে নিয়েছে। কিন্তু তারা করি, করছি বলে সুদ হার বাস্তবায়নে বিলম্ব করছিল। ফলে সরকার বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সুদ হার নির্ধারণ করে দিলেন। যদিও সরকারের এই উদ্যোগ কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকেই আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। কারণ মুক্তবাজার অর্থনীতিতে এভাবে সুদের হার নির্ধারণ করে দেয়ার কোনো বিধান নেই। একটি পণ্য বা সেবা কত দামে বিক্রি হবে তা নির্ধারিত হবে বাজারে পণ্যটির যোগান এবং চাহিদার উপর ভিত্তি করে। কাজেই বাজার চাহিদা এবং যোগানের উপর ভিত্তি করে সুদের হার নির্ধারিত হওয়াটাই ছিল যৌক্তিক। এখন প্রশ্ন হলো,সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থোকে এমন কি প্রধানমন্ত্রী নিজেও ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর জন্য একাধিকবার তাগিদ দিয়েছেন কিন্তু তারপরও ব্যাংকগুলো এটা করছিল না। তাহলে সমস্যা কোথায়? দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের উচ্চ সুদ হারের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ি হচ্ছে পর্বত প্রমাণ খেলাপি ঋণের উপস্থিতি। কোনোভাবেই খেলাপি ঋণ কমানো যাচ্ছে না। খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোর ‘কস্ট অব ফান্ড‘ অনেক বেশি। ফলে তারা চাইলেই তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দিতে পারছিল না। ফলে বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত এই ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করতে হলো। কিন্তু খেলাপি ঋণ আদায় না করে শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের মাধ্যমে এভাবে সুদের হার কমিয়ে আনার উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে। আর হলেও কতটা টেকসই হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
যাহোক, তারপরও আমরা আশায় রইলাম। ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনার কোনো বিকল্প এই মুহূর্তে নেই বললেই চলে। উচ্্চ সুদ হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রতিযোগিতায় ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে।

Share
নিউজটি ৫১৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged