editorial

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যবেক্ষণ জোরদার করতে হবে

সময়: সোমবার, জানুয়ারি ৬, ২০২০ ১১:৫৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ


অতি সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘লাইফ সাপোর্টে যাচ্ছে ছয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান’ শীর্ষক এক উদ্বেগজনক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। চরম অব্যাবস্থাপনা এবং ব্যাপক দুর্নীতির কারণে দেশের ৬টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান অস্তিত্ব সঙ্কটে পতিত হয়েছে। নানা ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে ঋণদান, প্রদত্ত ঋণের কিস্তি আদায়ে চরম ব্যর্থতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতিতে পড়ে অস্তিত্ব হারানোর শঙ্কায় রয়েছে। অব্যবস্থাপনার কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ঘুরে দাঁড়ানোর সব সম্ভাবনা তিরোহিত হয়েছে। এই ৬টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংক শেষ চেষ্টা হিসেবে অবেশেষে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করে অবিবেচনাপ্রসূতভাবে বিপুল পরিমাণ ঋণদানের ফলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর এ অবস্থার মধ্যে এসে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সবচেয়ে বড় পুঁজি হচ্ছে তাদের উপর মানুষের আস্থা ও বিশ^াস। সাধারণ গ্রাহক তাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এসব প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত রেখে নিরাপদ বোধ করে। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর অবিবেচনাপ্রসূত কাজের জন্য যদি সেই বিশ^াসে চিড় ধরে তাহলে সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। শুধু এই কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই নয়, আমাদের দেশের বেশ কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। গত সেপ্টেম্বর মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৬ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে উল্লেখিত ৬টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ২ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা। এটা নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট খেলাপি ঋণের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে অবহেলা ছিল। তা না হলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হতো না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে অবহেলা ছিল কিনা আমরা সে প্রসঙ্গে যেতে চাই না। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হবে কেনো? প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সঠিকভাবে আইন মেনে চলতো এবং অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করত তাহলে নিশ্চয়ই এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দেন আহমেদ বলেছেন, মুষ্টিমেয় কিছু প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার কারণে দুর্নাম হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনদানকালে তার আর্থিক সামর্থ, উদ্যোক্তাদের বৈশিষ্ঠ্য, সামাজিক সুনাম ইত্যাদি বিষয় ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায় করার জন্য অনুমোদন দানের পর তারা যদি কোনো অন্যায় করে তাহলে তার দায়ভার অন্যদের উপর কিছুটা হলেও বর্তায়। কারণ সেই খাতের বিশ^াসযোগ্যতা নষ্ট হয়। কাজেই বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ মানুষের সম্পদ এবং বিশ^াস নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।

Share
নিউজটি ৪২১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged