ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে অনিয়ম-দুর্নীতিতে কীভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়ে : সিপিডি

সময়: সোমবার, নভেম্বর ৪, ২০১৯ ৯:৪৩:৩৫ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : যে সব তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হচ্ছে তা জনগণের সামনে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছে ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ’ (সিপিডি)। ব্যাংক, পুঁজিবাজারে চলমান নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে কীভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়ে সে প্রশ্ন তুলেছে বেসরকারি এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। তবে যেসব পরিমিতির ওপর নির্ভর করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা কৌশল নির্ধারণ হচ্ছে Ñতা নিয়ে আলোচনার দরকার আছে বলেও মনে করে সিপিডি।

গতকাল রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়নে ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বাধীন পর্যালোচনা, ২০১৯-২০ অর্থবছর প্রারম্ভিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে সিপিডি’র সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ সব কথা বলেন।

সেমিনারে বাংলাদেশের রাজস্ব খাত, ব্যাংক, পুঁজিবাজার এবং বৈদেশিক লেনদেনের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে চারটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবদনগুলো তুলে ধরেন যথাক্রমে সিপিডি’র সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. তৌফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, দেশে ব্যক্তিখাতের ঋণ প্রবাহ সর্বকালের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে কম, অথচ প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে সেই টাকা ফেরত দিচ্ছে না, ব্যাংকগুলো তারল্য সংকট রয়েছে। ব্যক্তি শ্রেণি বলছে, তারা ব্যবসায় লাভ করতে পারছেন না। তারপরেও প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, এটা কিভাবে সম্ভব হচ্ছে?
বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সরকার আর্থিক খাত সংস্কার না করে প্রণোদনার পথে যাচ্ছে। কিন্তু এক সময় প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষমতাও সরকারের কমে যাবে। কারণ রাজস্ব আয় কমে গেছে, দেশে এত প্রবৃদ্ধি হলো তাহলে আয় গেলো কোথায়, বর্ধিত আয়ের ট্যাক্স কোথায়? হিসাব হলো, রাজস্ব আয় যদি কমে যায়, বাজেট ঘাটতি যদি বেড়ে যায় ব্যাংকিং খাতে যদি বিপর্যয় নেমে আসে, তাহলে প্রবৃদ্ধি বাড়বে কিভাবে? তিনি বলেন, অর্থনীতি সংস্কারের বিপরীতে তথাকথিত প্রণোদনা ভিত্তিক অর্থনীতি টেকসই হওয়া মুশকিল।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে বড় ধরনের সঙ্কট রয়েছে। যে সব কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসছে সেগুলো বাজারে আসার পর সমমান ধরে রাখতে পারছে না। তারপরেও আমাদের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে! শুধু তাই নয়, আমদানির ক্ষেত্রে পুঁজিপণ্য আসার ক্ষেত্রে এবার নেতিবাচক হয়ে গেছে, তারপরেও প্রবৃদ্ধি বাড়ছে!

ড. দেবপ্রিয় বলেন, অর্থনীতির পুরোটাই এখন কর ফাঁকি, বিদেশে অর্থ পাচার হয়, ব্যাংকের টাকা নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে কীভাবে ১০ টাকার জিনিস হাজার টাকায় কেনা যায়, সেই অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতে যে ঘাটতি রয়েছে, সরকার সে সব ঘাটতি মোকাবেলায় কখনো প্রণোদনা দিয়ে, না হয় টাকার সঞ্চার করে কিংবা কর রেয়াদ দিচ্ছে। অর্থ্যাৎ অর্থনীতির ভিতরে এক ধরণের প্রণোদনার আসক্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রতিযোগীতার সক্ষমতার বিপরীতে এই ধরনের আর্থিক প্রণোদনা আর্থিক আসক্তি তৈরি হচ্ছে। এর বড় কারণ হলো সরকার আর্থিক খাতে কোনো সংস্কার করছে না সেজন্য ব্যক্তিখাত ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই ধরনের ব্যয় করছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার জনগণের কাছ সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গত তিন মাসে তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। সংস্কারের অভাবে যারা লাভবান হয়েছেন, তারাই সংস্কার করতে দিচ্ছেন না। অর্থ্যাৎ যারা কর না দিয়ে, টাকা বিদেশে পাচার করে এবং ব্যাংকের টাকা নিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না, পুঁজিবাজারের টাকা নিয়ে ফটকাবাজি করেন, সরকারি প্রকল্পের টাকা নিয়ে অতিমূল্যায়িত করছেন, তারা সংস্কারের শত্রু হিসাবে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছেন। এই রাজনৈতিক অর্থনীতির দুষ্টচক্র যদি ভাঙ্গতে না পারে তাহলে অর্থনীতিতে কোনো সমাধান আসবে না। আমরা চাই সরকার তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করুক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে তথ্য উপাত্তের লব্ধতা ক্রমান্বয়ে দুষ্কর হয়ে যাচ্ছে। যে সমস্ত তথ্য উপাত্ত আমরা পাচ্ছি তা চলমান সময়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তারপরেও যেসব তথ্য উপাত্ত আসছে তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৯৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged