NBR

ভ্যাট ফাঁকি রোধে পণ্যের সঙ্গে চালান বাধ্যতামূলক

সময়: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯ ১০:৫৯:০৬ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : এখন থেকে যে কোনো পণ্য বা সেবা সরবরাহের সময় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালান রাখা বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ভ্যাট ফাঁকি রোধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিগগিরই এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
এজন্য পণ্যের চূড়ান্ত গন্তব্যস্থল পর্যন্ত পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনে এবং পণ্যের সঙ্গে ভ্যাট চালানের কপি থাকতে হবে। পণ্য গ্রহণকারী শাখা উক্ত চালানপত্র ৫ বছর সংরক্ষণ করবেন। এমনকী কোনো চালানের বিপরীতে অনিষ্পন্ন কোনো বিষয় থাকলে তা নিষ্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে।
জানা গেছে, এনবিআর এবছর ভ্যাট থেকে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ভ্যাট চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর এনবিআরের ভ্যাটনীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছে সরকারি মুদ্রণ বিভাগকে (বিজি প্রেস)। মূল্যসংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আই, ২০১২ এর আওতায় প্রণীত আইনে এটি সংযোজিত হবে। আগামী সপ্তাহেই এর গেজেট প্রকাশ হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধিত ব্যক্তি কর্তৃক পণ্য বা সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে ক্রেতা বরাবর ফরম মূসক-৬.৩ এ চালানপত্র ইস্যুর বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে ন্যূনতম দুটি প্রস্থে চালানপত্র ইস্যু করতে হবে। যার মূল চালানপত্রটি ক্রেতাকে প্রদান করতে হবে এবং অপর কপি নিবন্ধিত ব্যক্তি কমপক্ষে ৫ বছর সংরক্ষণ করবেন। এছাড়া এক শাখা থেকে অন্য শাখায় পণ্য স্থানান্তর করার জন্য মূসক ফরম ইস্যুর বিধান রয়েছে। যার মূল চালানপত্রটি পণ্য গ্রহণকারী শাখা বরাবর প্রেরণ করতে হবে এবং অনুলিপি জারিকারী শাখায় সংরক্ষণ করবেন।
কিন্তু এনবিআর অবহিত হয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকৃত পণ্য বা সেবার সাথে মূসক ফরম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পণ্য বা সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে চালান না থাকলে অনাহুত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
এনবিআর বলছে, অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পৃথক কারখানায় উপকরণ উৎপাদন হয় সেই সকল নিজস্ব পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়ে। এ সকল প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব পৃথক কারখানা উপকরণ উৎপাদনকারী ইউনিট কেন্দ্রীয় উৎপাদন ইউনিটে অন্তর্ভূক্ত করার সময় কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। দুই বা ততোধিক স্থান হইতে অভিন্ন অথবা সমজাতীয় পণ্য বা সমজাতীয় পণ্য বা সেবা উভয়ই সরবরাহ সংক্রান্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করার বিষয়ে উল্লেখ করতে হবে।
পণ্য বিক্রি, বিনিময়, হস্তান্তর, অধিকার প্রদান বা ভোক্তার কাছে সরববরাহ। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ইউনিটে হিসাব সংরক্ষণের শর্তে পণ্যের চালান রাখতে হবে।
এনবিআর সূত্রটি বলছে, অনেক প্রতিষ্ঠানই নানাভাবে ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করে। নিজস্ব কারখানা থেকে আরেক কারখানায় নেয়ার নামে গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করে দিচ্ছে। এতে সরকার ভ্যাট হারাচ্ছে। এসব বন্ধ করতে ভ্যাট চালান রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪০৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged