দুই ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন

মন্দা বাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষায় ব্যর্থ বাংলাদেশ ফান্ড

সময়: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ ১০:৫৬:০৩ পূর্বাহ্ণ


নাজমুল ইসলাম ফারুক : পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের ধসপরবর্তী সময়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো এবং তারল্য সংকট কাটাতে সরকারের পরামর্শে গঠন করা হয়েছিল ‘বাংলাদেশ ফান্ড’-নামে একটি বিশেষ তহবিল। ‘ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ’ (আইসিবি)-এর উদ্যোগে রাষ্ট্রায়ত্ত আরো ৭টি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ ফান্ড গঠন করা হয়। ওই সময়ে ফান্ডটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কিছুটা ভূমিকা রাখলেও চলমান মন্দা পরিস্থিতিতে বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, পুঁজিবাজারের ক্লান্তিকালে ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ সাপোর্ট দেয়ার লক্ষ্যে গঠন করা হলেও তা ওই নীতি অবলম্বন করেনি। প্রকৃতপক্ষে যে কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ড বাজারের সংকটকালীন সময়ে সাপোর্ট দিতে পারে না। প্রতিবছর এ ফান্ডের লভ্যাংশ হিসেবে দিতে হচ্ছে শতকোটি টাকার বেশি। দীর্ঘ মন্দা বাজারে বিনিয়োগ করে লোকসানেও পড়েছিল ফান্ডটি।

এদিকে, দীর্ঘ মন্দা বাজারে সাপোর্ট দেয়ার জন্য সম্প্রতি সময়ে আইসিবি ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) বৈঠকে এ ধরনের আরেকটি ফান্ড গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ফান্ড বাজারকে সাপোর্ট দিতে পারে না। যেহেতু মিউচ্যুয়াল ফান্ড তাদের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। তাই তারল্য সংকট কাটাতে এ ফান্ড সাপোর্ট দেয়ার নীতি অবলম্বন করে না। তাই বাজারকে সাপোর্ট দেওয়ার মতো দৃশ্যমান কিছু করা উচিত।

এ বিষয়ে আইসিবি’র অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও ডিজিএম মো. গোলাম রাব্বানি ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, “বাজারকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে। কিন্তু তা বাজারকে তেমন সাপোর্ট দিতে পারছে না। কারণ এ ফান্ডে যারা বিনিয়োগ করেছে তাদেরকে বছর শেষে লভ্যাংশ দিতে হয়। সে হিসেবে এটি ফান্ডের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় করছে।”

তিনি বলেন, ‘আসলে পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য মিউচ্যুয়াল ফান্ড নয়। আলাদা প্রি-ফান্ড গঠন করা উচিত, যা দিয়ে তারল্য সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। অনেকের ধারণা আইসিবি বিনিয়োগ বাড়ালে বাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরবে। আসলে তা ঠিক নয়। বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যাংকগুলো নিয়ম মেনে বিনিয়োগ করতে হবে। তাহলে বাজারে যে সংকট রয়েছে, তা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

আইসিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ধস-পরবর্তী সময়ে বাজারে তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠতে স্থিতিশীল বাজারের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছিল আইসিবি। উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল), সাধারণ বীমা করপোরেশন ও জীবন বীমা করপোরেশন। ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান হিসেবে ছিল আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট।

পাঁচ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলেও উদ্যোক্তা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ব্যক্তি বিনিয়োগকারী ও অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত বাংলাদেশ ফান্ড তহবিলের বর্তমান আকার এক হাজার ৯০০ কোটি টাকা। ধসের পর কয়েক বছর পার হয়ে গেলেও এ ফান্ড বাজারের ক্লান্তিকালে সাপোর্ট দিতে পারছে না। দীর্ঘ মন্দা বাজারে ফান্ডের বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের ক্লান্তিকালে সাপোর্ট দেয়ার লক্ষ্যে গঠন করা হলেও তা ওই নীতি অবলম্বন করেনি বাংলাদেশ ফান্ড। আসলে একটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড বাজারের সংকটকালীন সময়ে সাপোর্ট দিতে পারে না। প্রতিবছর এই ফান্ডের লভ্যাংশ হিসেবে দিতে হচ্ছে শতকোটি টাকার বেশি। দীর্ঘ মন্দা বাজারে বিনিয়োগ করে লোকসানেও পড়েছিল ফান্ডটি। বর্তমান বাজারে যে সংকট চলছে তা দেখার কেউ নেই। বর্তমান সময়ে ব্যাংক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিরব রয়েছে। তারা বিনিয়োগ করলে সংকট অনেকটা কেটে যায়। সংকট থেকে উত্তোরণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেয়া উচিত।

এ সম্পর্কে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’- কে বলেন, “সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ কোনো উপকারেই আসেনি। আইসিবি এ ফান্ডের অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করছে Ñতা তারাই ভালো জানে।”

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৫ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৩৩ পয়েন্টে অবস্থান করেছে, যা গত পৌনে ৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে। এর আগে ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৯২৪ পয়েন্টে অবস্থান করেছিল।

এদিকে ডিএসই’র পরিচালক রকিবুর রহমান ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’- কে বলেন, ‘বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নিলে বাজারকে ঘুরে দাঁড় করানো সম্ভব।’

ফান্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘২০১০ সালের ধস-পরবর্তীতে ফান্ডটি যে উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছিল বাজারে তারল্য সংকট কাটাতে তাদের ভূমিকা দৃশ্যমান নয়।’

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতি ইউনিটের বিক্রয়মূল্য ছিল ৯৩ টাকা এবং পুনঃক্রয়মূল্য ছিল ৯০ টাকা।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৬ মার্চ ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামে তহবিল গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। ওই বছরের ১০ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ ফান্ডের ইউনিট বিক্রি শুরু করে অর্থ সংগ্রহ শুরু করে।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩০৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged