শিক্ষা বীমার খসড়া নীতিমালা

মাসিক প্রমিয়াম হার ২৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব

সময়: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০ ১২:২৬:১৯ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : স্কুল ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন সুরক্ষার জন্য ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে বীমা সুবিধা প্রচলনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি খসড়া নীতিমালা তৈরী করেছে। খসড়া নীতিমালায় প্রিমিয়ামের হার প্রতি মাসে ২৫ টাকা হারে বার্ষিক ৩০০ টাকা নির্ধারনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ইন্স্যুরেন্স ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটির (আইডিআরএ) সদস্য বোরহান উদ্দীন আহমেদ দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন বীমা কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও একচ্যুয়ারির সঙ্গে একাধিক সভার মাধ্যমে তাদের মতামতের ভিত্তিতে খসড়া নীতিমালাটি তৈরি করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। খসড়া নীতিমালাটি এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
খসড়া নীতিমালায়, বীমা অংক নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। মা-বাবা বা অভিবাবকের মৃত্যু ঘটলে শির্ক্ষার্থীকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ১ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন বয়স ধরা হয়েছে ৫ বছর ও সর্বোচ্চ ১৭ বছর। অভিভাবকের সর্বনিম্ন বয়স ধরা হয়েছে ২৫ বছর ও সর্বোচ্চ ৬৫ বছর। বীমা সুবিধা গ্রহনের তারিখ হতে বীমা কার্যকর হবে। পাশাপাশি অভিভাবকের বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হলে বীমা মেয়াদোত্তীর্ণ হবে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নীতিমালায় বয়স ও মেয়াদ নির্বিশেষে একটি অভিন্ন প্রিমিয়াম হার নির্ধারণ করা সম্ভব। যদি বাংলাদেশ সরকার পুরো প্রিমিয়ামের পরিমাণ ভতুর্কি হিসাবে অথবা ব্যাংকগুলো সিএসআরের আওতায় পুরো প্রিমিয়ামের পরিমাণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে বীমা কোম্পানিদের প্রদান করে। তবে ভবিষ্যতে ভর্তুকি প্রদান সংক্রান্ত বিষয়টি চ’ড়ান্ত হলে সেই আলোকে রেট পুন:নির্ধারিত করা যেতে পারে।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় অভিভাবকের মৃত্যুজনিত কারণে বীমা সুবিধা প্রদান করা ছাড়াও স্থায়ী সম্পূর্ণ বা আংশিক অক্ষমতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীর বয়স ও শ্রেণি ও অন্যান্য প্রাসংঙ্গিক তথ্যাদি ব্যাংক সংরক্ষণ করবে। বীমা কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী পৃথক ফরম বা হিসাব ফরমে এ সংক্রান্ত বিষয়ে ঘোষণা থাকতে হবে। শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাব ডেবিট করে বীমা প্রতিষ্ঠানকে প্রিমিয়াম প্রদান করা হবে। কোন দাবী উত্থাপিত হলে ব্যাংক দাবী পরিশোধের জন্য বীমা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি প্রেরণ করবে। যথাযথ দাবী প্রক্রিয়া সম্পাদনের ১৫ দিনের মধ্যে বীমা প্রতিষ্ঠান দাবী পরিশোধ করবে। বীমা কোম্পানি এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রস্তাব, চুক্তির প্রক্রিয়া, পলিসি সিডিউল, বেনিফিট সিডিউল তৈরি করবে এবং প্রিমিয়াম হারসহ উক্ত ডকুমেন্টগুলো ব্যাংকের নিকট সরবারহ করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে আইডিআরএ বীমা কোম্পানির লাইফ ফান্ডের আকার, তাদের ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা ও বীমা দায় পরিশোধের দ্রুত নিষ্পত্তি ও সক্ষমতা বিবেচনায় ১০ টি বীমা কোম্পানি নির্বাচন করতে পারবে। এছাড়া পলিসিটি পরবর্তিতে অভিজ্ঞতার আলোকে প্রিমিয়াম হার, সুবিধাদি এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ পর্যালোচনা করা যেতে পারে। এবং পর্যালোচনার নিরিখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪২৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged