editorial

মুজিববর্ষে কেউ বেকার থাকবে না

সময়: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০ ১২:১৩:৪২ পূর্বাহ্ণ


রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে আগামী মার্চ মাস থেকে শুরু হচ্ছে ‘মুজিববর্ষ’। নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে মুজিববর্ষ উদযাপনকল্পে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই মুজিববর্ষের ক্ষণ গননা শুরু হয়েছে। বছরটি এমনভাবে পালন করা হবে যাতে বাংলাদেশি জনগণ আজীবন এই তা মনে রাখতে পারে। সারা বছরব্যাপী নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে যাতে বছরটি স্মরণীয় হয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি ঘোষণা দিয়েছেন যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় কার্যালয়ে আত্মকর্মী ও যুব সংগঠকদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বলেছেন,মুজিববর্ষে কেউ বেকার থাকবে না। তার এই বক্তব্য দেশের লক্ষ লক্ষ বেকার তরুণ-তরুনীর মনে আশার সঞ্চার করেছে। আমাদের দেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্ময়কর অগ্রগতি সাধন করেছে। বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য উন্নয়নের ‘রোল মডেল‘ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশই এখন বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে। কিন্তু একটি সমস্যা এখনো আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে তাহলো বেকার সমস্যা। সরকারিভাবে বলা হচ্ছে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ। কিন্তু এই পরিসংখ্যান কারো নিকটই গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ দেশে বেকারের প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি। কারো কারো মতে,বাংলাদেশে বর্তমানে বেকারের সংখ্যা কম করে হলেও ৪ কোটি। এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী তাদের কর্মদক্ষতা জাতীয় উন্নয়নে ব্যবহার করতে পারছে না। বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছে। একটি দেশের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বয়স যখন ১৫ হতে ৬০ বছরের মধ্যে থাকে তখন সেই অবস্থাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলা হয়। একটি জাতির জীবনে এই অবস্থা একবারই আসে। যারা এই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তারা আর কখনোই উন্নতি অর্জন করতে পারে না। কিন্তু ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুফল কাজে লাগাতে হলে প্রতিটি মানুষের হাতকে কর্মীর হাতিয়ারে পরিণত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগদানের মাধ্যমে কখনোই বেকার সমস্যা সমাধান করা যাবে না। এজন্য আমাদের আত্মকর্মসংস্থানের প্রতি জোর দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,যুব সমাজকে ভাবতে হবে আমরা কেনো চাকরি করবো? আমরা চাকরি দেবো। অর্থাৎ প্রশানমন্ত্রী আত্মকর্মসংস্থানের উপ গুরুত্বারোপ করেছেন। যুব সমাজের মধ্য থেকে উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাকরি না করলেই বেকার বিষয়টি তা নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি না করেও অনেকে ঘরে বসে প্রচুর অর্থ আয় করছেন। তিনি আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নানা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উল্লেখ করে বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই একজন যুবক বা যুবতী আত্মকর্ম সংস্থান করতে পারবে না। তাদের আর্থিক সহায়তাও দিতে হবে। বর্তমান সরকার যুব সমাজের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের জন্য ঋণদানসহ বিভিন্ন ভাবে আর্থিক সাপোর্ট দিতে বদ্ধপরিকর।

অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন,বাংলাদেশের মতো জনসংখ্যাবহুল একটি উন্নয়নশীল দেশের বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ খুবই জরুরি। তবে সবার মাঝে উদ্যোক্তা হবার মতো গুনাবলি থাকে না। তাই প্রশিক্ষণদানের আগেই নির্ধারণ করতে হবে কারা উদ্যোক্তা হবার মতো যোগ্যতা সম্পন্ন। যারা উদ্যোক্তা হবার মতো যোগ্যতা রাখেন তাদের উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ দিতে হবে। অন্যদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সাধারণ প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে।

Share
নিউজটি ৩৬২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged