editorial

মুজিব বর্ষ স্মারক ঋণ একটি ভালো উদ্যোগ

সময়: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২০ ১২:১৬:১৮ পূর্বাহ্ণ


জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শত বার্ষিকী নানা আয়োজনে উদ্যাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মুজিব বর্ষকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক জনতা ব্যাংক লিমিটেড যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা সবার মনেই আশার সঞ্চার করেছে। দেশের দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে জনতা ব্যাংক মুজিববর্ষ স্মারক ঋণ নামে একটি বিশেষ ঋণদান কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে। আগামী ১৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুর শততম জন্ম দিনে এই ঋণদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। এই ঋণদান কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষিত দরিদ্র বেকার যুবক-যুবতীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তুলনামূলক সহজ শর্তে ঋণদান করা হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শত বার্ষিকী উপলক্ষে এউ বিশেষ ঋণদান কার্যক্রম চালু করা হলেও আগামীতেও এই ঋণদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এই ঋণদান কার্যক্রম সম্পর্কে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বঙ্গবন্ধু ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশের গঠনের স্বপ্ন দেখতেন। তার সেই অর্থনৈতিক দর্শনকে সামনে রেখে জনতা ব্যাংক লিমিটেড এই বিশেষ ঋণদান কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে। ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ন্যূনতম এসএসসি পাশ যে কোনো তরুন-তরুণী বিনা জামানতে এই ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। উদ্বোধনী দিবসে অন্তত একশ‘ জন তরুন-তরুণীর হাতে ঋণের অনুমোদন পত্র তুলে দেয়া হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা জনতা ব্যাংকের শাখা থেকে এই ঋণ বিতরণ করা হবে। মুজিববর্ষ স্মারক ঋণের সর্বোচ্চ সিলিং হবে ২ লাখ টাকা। ঋণ গ্রহণের পর ৫ বছরে ৬০ কিস্তিতে তা পরিশোধ করতে হবে।
জনতা ব্যাংক লিমিটেড মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঋণদানের যে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা নানা কারণেই বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। অর্থনৈতিকভাবে দেশটি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে আমাদের দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের বয়স ১৫ হতে ৬০ বছরের মধ্যে অর্থাৎ এই বিপুল সংখ্যক মানুষ কর্মক্ষম। কিন্তু এখনো আমরা সবার জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারিনি। ফলে অনেকেই তাদের উদ্ভাবনী শক্তি বা কর্মস্পৃহা ব্যবহার করতে পারছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক বার বলেছেন,শুধু সরকারি চাকরি প্রদানের মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধান করা যাবে না। এজন্য আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার নানাভাবে যুব সমাজের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুব সমাজের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠার ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হলো অর্থায়নের অপ্রতুলতা। জনতা ব্যাংক লিমিটেড যুব সমাজের জন্য পুঁজি যোগানের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ। দেশের অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান জনতা ব্যাংক লিমিটেড এর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে পারে। তাহলে আগামীতে যারা উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চান তাদের অর্থায়ন প্রাপ্তিতে কিছুটা হলেও সুবিধা হবে। আমরা জনতা ব্যাংক লিমিটেডের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই এবং সফলতা কামনা করছি।

 

Share
নিউজটি ৮১২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged